রোজার ঈদের পর এবারও কাপড়ের কেনাবেচা নেই!

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ২১:৩৬

পাবনায় তাঁতিরা হতাশ

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

কাপড় বিক্রির বড় মৌসুম ঈদ। ঈদ উত্সবে নিম্নবিত্ত-উচ্চবিত্ত সবার হিড়িক পড়ে কাপড় কেনার। ঈদ এলে তাঁতি ও ব্যবসায়ীরাও একটু বাড়তি প্রস্তুতি নেন। নতুন ডিজাইনের কাপড় বাজারে আনেন। রোজার ঈদে ব্যবসা হয়নি বলে এবারের ঈদের সামনে পাবনা জেলার কিছু তাঁতি তাঁত সচল করে কিছু কাপড় তৈরি করেছিলেন। কিন্তু করোনায় এবারও ঈদকে ঘিরে কাপড় বিক্রি নেই বললেই চলে। তাই জেলার  কয়েক হাজার তাঁতি ফের হতাশ।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পাবনার সাঁথিয়া বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার জুয়েল চন্দ্র পাল  বললেন,  জেলার সাঁথিয়া, বেড়া, সদর উপজেলায় তাঁতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখন হস্তচালিত তাঁত এবং বিদ্যুত্চালিত পাওয়ার লুমের সংখ্যা ৩২ হাজারের মতো। এই তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত  প্রায় ৭০ হাজার  শ্রমিক। এছাড়া অন্যান্য ব্যবসা ও পেশার লোকজন তাঁতশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাঁতশিল্পকে কেন্দ্র করে শাহজাদপুর ও আতাইকুলায় কাপড়ের হাট গড়ে উঠেছে। 

 দোগাছি মহল্লার ৮-১০ জন তাঁতি জানান, এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁতশিল্পে বিপর্যয় চলছে। কাপড়ের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই তাঁত চালু রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছিল। এর ওপর করোনা পরিস্থিতি তাঁতিদের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঈদুলফিতরের পর ঈদুল-আজহার হাটগুলোই ছিল তাঁতিদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার শেষ ভরসা। তাই কিছু তাঁতি বন্ধ তাঁতগুলো চালু করেছিলেন। এসব তাঁতি আশা করেছিলেন, ঈদুল-আজহার হাটে ভালো দামে শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি।  তৈরি কাপড় গুদামে পড়ে রয়েছে।

শাহজাদপুর হাটের কাপড় ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামান জানান, দূরের ব্যবসায়ীরা হাটে না আসায় শাড়ি-লুঙ্গির যা বেচাকেনা, তার বেশির ভাগই হচ্ছে মুঠোফোনের মাধ্যমে। পাশাপাশি অল্প কিছু ব্যবসায়ী হাটে এলেও বেচাকেনা জমে ওঠেনি। এ পরিস্থিতিতে হাটের প্রায় অর্ধেক দোকানই বন্ধ রয়েছে। বেড়া পৌর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলামের শাহজাদপুর হাটে  পাইকারি কাপড় বিক্রির দোকান ছিল। গত কয়েক মাসে তেমন কোনো কাপড় বিক্রি হয়নি।  সে কারণে এই মাসে দোকানটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বেড়া পৌর এলাকার হাতিগাড়া মহল্লার একটি তাঁত কারখানার মালিক গিয়াসউদ্দিন বলেন, তার ৪৯টি তাঁতের মধ্যে ৪৫টিই বন্ধ।

পাবনা জেলা তাঁতি সমবায় সমিতির সভাপতি কামরুল আনান রিপন  জানান, কাঁচামাল, ঋণের দায় আর কাপড় বিক্রি করতে না পারায় তাঁতপল্লিতে বড় সংকট নেমেছে। অনেকে বিদ্যুত্ বিল, ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। প্রণোদনার ঋণ সরকারের কাছে চাইতে গেলেও পাওয়া যাচ্ছে না।