পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার স্থায়ী-অস্থায়ীসহ সব শ্রমিক-কর্মচারীকে বাসা, দোকান ও লিজ নেওয়া আবাদি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিলের প্রধান গেটে সোমবার রাতে বাসা ছাড়ার নোটিশ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।
মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী সরদার জানান, মিলের প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী করোনা পরিস্থিতিতে উত্পাদন বন্ধ থাকায় এমনিতেই বেকার হয়ে পড়েছেন। তার ওপর তাদের সব পাওনা না দিয়ে বাসাবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া ঠিক হয়নি। মিল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, পাওনা টাকা পরিশোধ করে তাদের যেন বের করা হয়।
শ্রমিক ইকবাল ও মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমাদের পাওনা পরিশোধ না করে বের করে দিলে কোথায় যাব? নতুন বাসায় উঠতে গেলে অগ্রিম টাকা দিতে হয়। এছাড়া করোনা ও বর্ষা চলছে। বাসার মালামাল নিয়ে যেতেও পারব না, এখন আমাদের কী উপায় হবে! আর যদি এই সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ করে, তাহলে নোটিশ অনুযায়ী চলে যাব।’
বাংলাদেশ জুট মিলের প্রকল্পপ্রধান মো. মতিউর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘নোটিশ অনুযায়ী শ্রমিকেরা জুলাই ও আগস্ট মাস থাকতে পারবেন। আর দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকেরা পাওনা টাকাও পেয়ে যাবেন। সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তার পরেও যদি কারো সমস্যা থাকে এবং কলোনিতে আরো এক মাস থাকার জন্য আবেদন করে, সেই সুযোগও দেব। তবে এটা নিশ্চিত, কাউকে জোর করে ওঠাব না।’
