লিবিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে রাশিয়া :যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ২২:২৭

আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রাশিয়া আবারও লিবিয়ায় তাদের সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। সেখানে হাফতারের অনুগত যোদ্ধাদের সমর্থনে এ অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

মার্কিন মিলিটারির আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) শুক্রবার বলেছে, এ সংক্রান্ত স্যাটেলাইটের তথ্য-প্রমাণাদি তাদের কাছে রয়েছে। আর এর ভিত্তিতে তারা এ সন্দেহ পোষণ করছেন যে, রাশিয়া আবারও সেখানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে। এতে আরো বলা হয়েছে, মস্কোর মিলিটারি কার্গো বিমানগুলো এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে আইএল-৬এস বিমানও রয়েছে। আফ্রিকম বলেছে, আমরা এসব প্রমাণাদির ভিত্তিতে জোরালোভাবেই বলতে চাই, রাশিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা কোনোভাবেই বিষয়টিকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছি না। তারা আরো বলেন, রাশিয়া এর আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। কিন্তু এবার তারা সেখানে থাকা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই এগুলো করছে। রাশিয়ান প্রাইভেট মিলিটারি কন্ট্রাক্টর ওয়াগনার গ্রুপ এ কাজ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আফ্রিকমের গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গ্রেগরি হেডফিল্ড বলেছেন, আমরা আমাদের হাতে যে সব প্রমাণাদি পেয়েছি তাতে এটা নিশ্চিত করেই বলতে পারি রাশিয়া লিবিয়ায় হাফতারের অনুগত বাহিনীদের সহায়তায় এই সামরিক সরঞ্জামাদি পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা এ ব্যাপারে তাদের নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। 

রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র এসএ-২২এস এখন লিবিয়ায় রয়েছে। এটি ওয়াগনার গ্রুপ বা তাদের প্রক্সির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তেল সমৃদ্ধ লিবিয়ায় মুয়ান্মার গাদ্দাফির পতনের পর সেখানে একটা বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এর একদিকে রয়েছে জিএনএ যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সরকার। তাদের হাতেই রাজধানী ত্রিপোলীর নিয়ন্ত্রণ। আর অন্যদিকে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে মিলিটারি কমান্ডার খলিফা হাফতার এবং তাদের নিজস্ব বাহিনী এলএনএ। এরা বেনগাজির পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাশিয়া, মিশর এবং আরব আমিরাত হাফতারকে এবং তুরষ্ক জিএনকে সমর্থন দিচ্ছে।