নেই স্বাস্থ্যবিধি ও ক্রেতা!
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী
ঘনিয়ে আসছে ঈদুল আজহা। কিন্তু সামর্থ্যবান মানুষেরা করোনা সংক্রমণের ভয়ে কোরবানির পশু কিনতে হাটে যাচ্ছেন না। আবার করোনায় কর্মহীন মানুষ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অর্থাভাবে পশুহাটে যাচ্ছেন না। তাই এখনো গরু-মহিষ বেচাকেনা জমে উঠেনি বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাজশাহী সিটি হাটে সরেজমিনে গিয়ে প্রচুর দেশীয় গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরু-মহিষের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। তবে হাটে গরু-মহিষের তুলনায় ক্রেতা খুবই কম। এছাড়া নানা প্রস্তুতির কথা বলা হলেও বৃহত্ এই পশুহাটে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও চোখে পড়েনি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং দেশীয় খামারির স্বার্থে এবার ভারতীয় গরু-মহিষ আমদানি বন্ধ করেছে সরকার। তাই এবার দেশের সীমান্ত এলাকার কোনো বিট-খাটাল ইজারা নবায়ন করেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমনকি লকডাউনের মধ্যই সীমান্তরক্ষী বাহিনী ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)’ সদস্যরা স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষের আগমন ঠেকাতে সীমান্তে পাহারা বসিয়েছে। কিন্তু তার পরও রাজশাহী সিটি হাটে প্রচুর ভারতীয় গরু-মহিষের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি ভারতীয় হাটে গরু-মহিষ নিয়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষুদ্র খামারি সোলেমান (৫২), রহিম (৫৯) ও লোকমান আলী (৪৮) সহ অনেকেই দাবি করেন, এই গরু-মহিষ ভারতীয় হলেও, করোনা মহামারির আগেই বিভিন্নভাবে দেশে এসেছে। কিন্তু করোনায় যানবাহন বন্ধ থাকায় গরু-মহিষগুলো কোথাও নেওয়া এমনকি বিক্রি করাও সম্ভব হয়নি। তাই এতদিন গরু-মহিষগুলো দেশীয় খামারে মোটাতাজা হয়েছে। এখন কোরবানির উদ্দেশ্যে হাটে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা রাখালরাও অনুরূপ দাবি করেন। প্রমাণ হিসেবে তারা উক্ত গরু-মহিষের শরীরে থাকা কালো ও লাল রঙের পুরাতন নম্বরগুলো তার সাক্ষ্য বহন করছে বলেও দাবি করেন।
এছাড়া রাজশাহীর পবার পারিলার খামারি মাসুদ রানা বলেন, প্রথম দিকে হাটে গরু কম উঠছিল। কিন্তু ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, হাটে গরুর সরবরাহ ততই বাড়ছে। তার মতো অনেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। কিন্তু দিন শেষে বিক্রি না হওয়ায় গরুগুলো খামারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন কিছু মানুষ হাটে এলেও দর-দাম করেই চলে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির যে অস্থায়ী হাট বসে, সেগুলোর গরু সরবরাহের অন্যতম হচ্ছে রাজশাহী সিটি হাট। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সিটি হাট থেকেই গরু-মহিষ পাইকারি কিনে ট্রাকে করে নিয়ে অস্থায়ী হাটগুলোতে বিক্রি করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সিটি হাটে বাইরের ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কম। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা। এই চিত্র বহাল থাকলে অনেক খামারিই এবার পথে বসবেন বলেও জানান মাসুদ রানা।
রাজশাহীর পুঠিয়ার ভাল্লুকগাছি চকপাড়ার খামারি হোসেন আলী জানান, মিনি ট্রাকে গরু হাটে আনা, খাওয়ানো ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা—পুরো সময় জুড়ে তাদের পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নাকে-মুখে মাস্ক পরে থাকা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। এ কারণে হাটের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ও খামারি নাকে-মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে পারছেন না। এছাড়া সব সময় গরুর দড়ি ধরে থাকা, তাকে সামলানো এবং গরুর গোবর তোলাসহ নানান কারণে হাতও পরিচ্ছন্ন রাখা যাচ্ছে না।
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান বলেন, এবারও হাটে দেশি গরুর প্রাধান্যই বেশি। অল্প কিছু ভারতীয় গরু উঠেছে। তবে সেগুলো অনেক আগেই দেশে প্রবেশ করেছে এবং দেশীয় খামারে পালিত হওয়ার পর হাটে এসেছে। তিনি বলেন, হাটে বেচাকেনা খুবই খারাপ। ঈদ ঘনিয়ে আসায় হাটে প্রচুর গরু-মহিষ আসছে। কিন্তু ক্রেতার অভাবে বেচাকেনা জমছে না। তবে শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশু কেনাবেচা জমে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
