বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় করোনায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ২১:২৪

কোরবানির পশুর হাট

ইত্তেফাক ডেস্ক

আসন্ন পবিত্র ইদুল-আজহার বাকি মাত্র কয়েকদিন। কোরবানির ঈদকে ঘিরে পশুর হাটগুলোতে গরু-ছাগলের ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। কিন্তু হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার তেমন গরজ নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের। মুখে মাস্কহীন ও শারীরিক দূরত্ব বিধি লঙ্ঘন করে হাটে হাটে ঘুরছেন বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতা। ফলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

রংপুর : মহানগরীর বিভিন্ন এলকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৯টি পশুর হাট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরকারি নির্দেশনা এবং হাট পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনের বিধিনিষেধ মানছেন না কেউই। এ চিত্র শুধু রংপুর নগরীর লালবাগ হাটের নয়, জেলার নিসবেতগঞ্জ হাট, বুড়িরহাট, লাহিড়ীর হাট, মমিনপুর হাট, তারাগঞ্জ হাট, পদাগঞ্জ হাট, পাইকড়ের হাট, রানীপুকুর হাট, জায়গীর হাট, বালার হাট, শঠিবাড়ী হাট, ভেন্ডাবাড়ী হাট, লালদিঘী হাট, মাদারগঞ্জ হাট, দেউতির হাট, বড় দরগাহ হাট, পাওটানা হাট, দামুরচাকলা হাট, মদামোদন হাটসহ জেলার সর্বত্রই প্রায় অভিন্ন চিত্রের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। লালবাগ হাটের ইজারাদার দুলু মিয়া জানান, আমরা কিছুক্ষণ পরপর হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সচেতন করছি। এছাড়াও হাটে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি রোধে হাত ধোয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছি। তাজহাট থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রোকনুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সবাইকে মুখে মাস্ক পরিধান করে হাটে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন তারা। এছাড়াও হাটে যাতে কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেজন্য পুলিশ কাজ করছে। এদিকে গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, হাটবাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ক্রমশই বাড়ছে। এসব হাটে আগতদের মুখে নেই মাস্ক, নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব মানার প্রবণতা। উপজেলার বেতগাড়ী, গজঘন্টা হাটসহ বিভিন্ন হাটে দেখা গেছে এমন চিত্র। বেতগাড়ী হাটের ইজারাদার মারুফ হোসেন বলেন, করোনা ঝুঁকি এড়াতে হাটে মাইকিং ও হাত ধোয়ার জন্য টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। কিন্তু মানুষ নিজে সচেতন না হলে কেউ সচেতন করতে পারবে না। গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, লোকজনকে সচেতন করছি। সেই সঙ্গে মাস্ক পরে হাটে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু কে শুনে কার কথা।

সিলেট :নগরীর কাজীরবাজার হাটে গত কয়েকদিনে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখা গেছে। এবার রাস্তায় পশুর হাট না বসানোসহ স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে স্বাস্থ্যবিভাগের বিশেষ কয়েকটি নির্দেশনা রয়েছে। এদিকে, সিসিক নির্ধারিত  দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনালে অস্থায়ীভাবে বসেছে পশুর হাট। অবশ্য রাস্তাঘাটে গরুর হাট না বসানো ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সাঁথিয়া (পাবনা) : উপজেলার বনগ্রাম (মিয়াপুর) পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্বও মানছে না কেউ। মিয়াপুর পশুর হাটের ইজারাদার খন্দকার শামীম জানান, হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কম হলেও বিক্রেতা অনেক।