স্পোর্টস রিপোর্টার
এখন মুখিয়ে আছি যেহেতু মাঠের মানুষ সেহেতু মাঠেই ফিরতে পারি এবং ম্যাচ খেলতে পারি—বক্তার নাম মুশফিকুর রহিম।
করোনাকালে ক্রিকেটহীন দিনগুলো মুশফিককে কতটা পোড়াচ্ছে তা সহজেই তা ক্রিকেট অনুরাগী মাত্রই অনুমান করতে পারেন। করোনার শুরু থেকে ঘরে ফিটনেসের কাজ করেছেন। সবার আগে ফর্টিস গ্রুপের মাঠে অনুশীলন শুরু করেছেন। বিসিবির অনুমতি পেয়ে গত এক সপ্তাহ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন করেছেন অভিজ্ঞ এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
ঈদের আগে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনুশীলনের শেষ দিন ছিল গতকাল। অনুশীলনের পর মুশফিকের কথায় ফুটে উঠেছে ব্যাটসম্যান হিসেবে ২২ গজের লড়াই কতটা মিস করছেন তিনি। দিন যত যাচ্ছে, ততই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাফ সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি হাতছাড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুশফিক। সাবেক এই অধিনায়কের আশা, ঈদুল আজহার পর পুরোদমে বাংলাদেশে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম শুরু হবে।
লন্ডনে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ আক্ষেপ বাড়াচ্ছে মুশফিকের মনে। টেস্টে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক গতকাল বলেছেন, ‘খেলা দেখলে আসলে আফসোস লাগে। সারাদিন বাসায় বসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ও খেলাটাই দেখা হয়। একটু হলেও খারাপ লাগে অনেকগুলো ৫০ বা ১০০ মিস হয়ে যাচ্ছে।’
তার পরও মানসিক প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করছি টিভিতে খেলা দেখে কীভাবে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা যায়। আর সব ঠিক থাকলে সামনে আমাদের কী কী খেলা সেগুলো নিয়েও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া। এছাড়া নতুন নিয়ম যেমন বলে অনেক কিছু ব্যবহার করা যাবে না , ব্যাটসম্যানদেরও একটা কঠিন সময় থাকে। সবকিছু দেখে ওখান থেকেও শিক্ষার নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যখন পুনরায় শুরু হবে আবার যেন আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারি সেটাই চাই।’
গত এক সপ্তাহ মিঠুন, তাসকিন, ইমরুল কায়েস, মেহেদী হাসান রানা, শফিউলদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন মুশফিক। তার মতে, ঈদের পর চাইলে চার-পাঁচ জনের গ্রুপ করেও অনুশীলন করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘যদি সবাই আত্মবিশ্বাসী থাকে আমরা মনে হয় গ্রুপে ১৫-২০ জন না হলেও দুই জন, চার জন, পাঁচ জন বা সাত জন একসঙ্গে শুরু করতে পারি।’
তবে শুরুতে মিরপুরে অনুশীলনে আসতে ভয় লেগেছিল মুশফিকেরও। কারণ মিরপুরের অবস্থান করোনার দিক থেকে রেড জোনে। এখন অবশ্য সব জড়তা কেটে গেছে তার। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশে সন্তুষ্ট মুশফিক।
