পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষাবাঁধের ৭০ মিটার পদ্মায় বিলীন

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ২২:৪৪

পদ্মা নদীতে স্রোতের কারণে ভাঙন অব্যাহত থাকায় গত দুই দিনে জাজিরার নাওডোবায় পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষাবাঁধের ৭০ মিটার বিলীন হয়েছে। আর কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের সিডারচর এলাকায় ভাঙনে ২০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এছাড়া শরীয়তপুরের আরো ১৪টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঐ স্থানগুলোতে             পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে।

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেছেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষাবাঁধের যে অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে তা থেকে সেতুর দূরত্ব দুই কিলোমিটার। এই মুহূর্তে সেতু প্রকল্প এলাকার কোনো ঝুঁকি নেই। ঐ স্থানে ৫০০ মিটার জায়গায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পাউবো। পদ্মা সেতু প্রকল্পসহ শরীয়তপুরের নানা স্থাপনা ও হাটবাজার রক্ষায় বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার প্রকল্প নেওয়া হবে। আর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের পাশে থাকতে।

শরীয়তপুর পাউবো সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগে ২০১০-২০১১ সালে জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন ছিল। ২০১২ সালে সেতু বিভাগ পূর্ব নাওডোবার ওকিল উদ্দিন মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকা সিসি ব্লক দিয়ে ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। ঐ বাঁধের শেষপ্রান্তে ওকিল উদ্দিন মুন্সীকান্দি এলাকা দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ যাবত্ ঐ এলাকা পদ্মা নদীতে ভাঙছে। শুক্র ও শনিবার বাঁধের ৭০ মিটার সিসি ব্লক নদীতে ধসে যায়। ঐ স্থান দিয়ে তীর উপচে পদ্মার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

কুণ্ডেরচর ইউনিয়নের একটি মৌজা সিডারচর, যার চারদিক দিয়ে পদ্মা নদী। সিডারচর এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ যাবত্। দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙনে ২০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে করপাড়া গুচ্ছগ্রাম।

জাজিরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষাবাঁধের সিসি ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হচ্ছে। ঐ স্থানটিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ভাঙনে গৃহহীন পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হবে। তাদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসন সহায়তাও দেওয়া হবে।

নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের জিরোপয়েন্ট, ওকিল উদ্দিন মুন্সীকান্দি, বড়কান্দি ইউনিয়নের দুর্গাহাট, নাজিম উদ্দিন ব্যাপারীকান্দি, নড়িয়ার ঘরিসার ইউনিয়নের চরমোহন, বাংলাবাজার, চরআত্রা ইউনিয়নের বসাকেরচর, কীর্তিনাশা নদীর নড়িয়ার মোক্তারের ইউনিয়নের ঢালীপাড়া, সদরের পালং ইউনিয়নে কোটাপাড়া, ডোমসার ইউনিয়নের মুন্সীরহাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের নির্দেশে ঐ স্থানগুলোতে ভাঙন রোধের জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।