করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিভাগীয় শহর বরিশালের সব পশুর হাটে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। এতে করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাটে স্ব্বাস্থ্যবিধি যাতে সকলে মেনে চলেন, সেদিকে নজরদারি রাখা হবে বলে হাট কর্তৃপক্ষ জানালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। হাটের অধিকাংশ খামারি ও ক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বরিশালের বেশির ভাগ হাটেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। এমন পরিস্থিতিতে পশুর হাটের আয়োজন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। হাটে প্রশাসনের নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বিক্রেতারা জানান, গত সোমবার থেকে তারা হাটে গরু নিয়ে অবস্থান করলেও ক্রেতা মিলছে না। গত বছর হাটের প্রথম দিনই একেক জন পাইকারের ২০/২৫টি গরু বিক্রি হলেও এবার দুই/একটিও বিক্রি হচ্ছে না। শুক্র, শনি ও গতকাল রবিবার সরেজমিনে বরিশাল মহানগরীর বাঘিয়া ও হাটখোলার স্থায়ী দুটি গরুর হাটের পাশাপাশি বরিশাল ও ঝালকাঠীর মধ্যবর্তী বিনয়কাঠী সুগন্ধিয়া হাট, চরমোনাই ও বানারীপাড়ার গুয়াচিত্রা বাজার ঘুরে দেখা গেছে হাটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও পশু বিক্রি হচ্ছিল খুবই কম। গত বছর বরিশাল জেলায় ৬৬টি পশুর হাট বসেছিল। এর মধ্যে ২৫টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী হাট ছিল। এবার করোনা সংক্রমণের কারণে পশুর হাটের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসছে। তবে স্থায়ী হাটগুলো প্রতি বছরের মতো নির্দিষ্ট স্থানেই বসছে। জানা গেছে, সুগন্ধিয়া হাটের পাশাপাশি চরমোনাই, সাহেবেরহাট, গৌরনদীর কসবা, উজিরপুর-বানারীপাড়ার মধ্যবর্তী গুয়াচিত্রা, বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া, বরিশাল সদর উপজেলার কাগাশুরা, তালতলী, বাকেরগঞ্জের চরাদী হলতা হাট, উজিরপুরের বরাকোটা, গৌরনদীর সাহেবেরচর, বাবুগঞ্জের রহমতপুর হাট বসেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও খামারিরা এসব স্থায়ী হাটে গরু নিয়ে ছুটছেন, কিন্তু বেচা-বিক্রি না হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট পরিচালনা করতে এবং হাটে মাস্ক পরিধান করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ঈদুল আজহার পর সংক্রমণের হার আরো বাড়তে পারে।
