যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে যেন নতুন নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়। চীনও পালটা ব্যবস্থা হিসেবে তিব্বতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চেংডুর মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে। দুই দেশই কনস্যুলেট খালি করে কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। এটা একেবারেই সাম্প্রতিকালে দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বন্দ্ব যা ঐতিহাসিকও বটে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে চার চীনা গবেষককে আটক করা হয়েছে। এর আগে বাণিজ্য যুদ্ধ, হংকংয়ের নিরাপত্তা আইন, দক্ষিণ চীন সাগর, করোনা মহামারি এবং ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত বিরোধ তো রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমেই চীনবিরোধী নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। আর এসবই ক্ষমতার জন্য!
দ্বিতীয়বার ক্ষমতা চান ট্রাম্প
মার্কিন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দিয়ে এগুলো করাচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অর্থাত্ পুনরায় আগের স্বাভাবিক সম্পর্ক হয়তো আর হবে না। আবার ব্রিটেনের পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এসবই ক্ষমতার জন্য। কারণ ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউজে আসতে চান। মার্কিন আরেক প্রভাবশালী মিডিয়া সিএনএন জানিয়েছে, দেশের স্বার্থে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনবিরোধী হলেও তার প্রতিষ্ঠান ঠিকই চীনের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জানিয়েছেন, ঐসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে তিনি নেই।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্পের বিভিন্ন সংস্থা চীন থেকে আট টন পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে ছয় টন টেবিল নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের জন্য আমদানি করা হয়। ঐ দিনই ট্রাম্প টুইট করেন, চীনের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া ভালোই চলছে। দুই মাস আগে লস অ্যাঞ্জেলসে ট্রাম্প গলফ ক্লাবের জন্য চীন থেকে দুই টন কাঠ ও গ্লাসের শোকেস ক্যাবিনেট আনা হয়। এর দুইদিন পর ট্রাম্প করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর জন্য চীনকে দায়ী করেন।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পম্পেওর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন। মূলত পম্পেওই চীনবিরোধী পদক্ষেপে জোরালো ভূমিকা রাখছেন বলে মার্কিন মিডিয়াসহ বিশ্বের কিছু মিডিয়া জানাচ্ছে। তিনি যে কট্টর চীনবিরোধী তার প্রমাণ পাওয়া গেছে, গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় রিচার্ড নিক্সন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে তার বক্তৃতায়। তার বক্তব্যের শিরোনাম ছিল ‘সমাজতন্ত্রী চীন এবং মুক্ত বিশ্বের ভবিষ্যত্’। তিনি গত ৫০ বছর ধরে চীনকে থামাতে ব্যর্থতার অভিযোগ করেন এবং মুক্ত সমাজকে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি সম্প্রতি ইউরোপ সফরে গিয়েও চীনবিরোধী একটি জোট গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি চীনের ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গেও ইউরোপে বৈঠক করেছেন।
চীন মাইক পম্পেওর প্রচেষ্টার কড়া সমালোচনা করে বলেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় পম্পেওর মন্তব্য শুনে মনে হয়, তিনি নিজেকে একবিংশ শতাব্দীর জন ফস্টার ডুলস হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। বিশ্ব জুড়ে কমিউনিস্ট চীনের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করতে চাইছেন। কিন্তু এমন প্রয়াস গাছকে নাড়াতে পিঁপড়ার ব্যর্থ চেষ্টার মতোই। পঞ্চাশের দশকে প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের আমলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডুলস কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ধনীরাই চান না ‘ধনকুবের’ ট্রাম্পকে
টেনেসিস অঙ্গরাজ্যের অন্যতম ধনী জিমি টোস ট্রাম্পের ৮০ ভাগ মতের সঙ্গে একমত, তবে তিনি জানান, দেশের গণতন্ত্র ট্রাম্পের হাতে নিরাপদ নয় বলে তিনি সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন। তিনি বরং ট্রাম্পকে হারাতেই কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছেন। আর লিংকন প্রজেক্টের শীর্ষ রিপাবলিকান ধনীরাও ট্রাম্পের বিরোধিতা করছেন। এমনকি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটর নিয়ন্ত্রণ যাতে ডেমোক্র্যাটরা পান সেই চেষ্টাও তারা করছেন। জিমি টোস ছাড়াও ট্রাম্প বিরোধীর তালিকায় ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী ক্রিস্টি ওয়ালটন ও হেইজ ফান্ডের রেডলিফসহ অনেকেই আছেন যারা সবাই রিপাবলিকান।
ইত্তেফাক/এএম
