২০২০-২১ অর্থবত্সরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অনুমোদন দিয়াছে ৮৬৯ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। গত অর্থবত্সরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ছিল ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে বর্তমান বত্সরে আকার বাড়িয়াছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। ইহা খুবই ইতিবাচক। উত্তরোত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের আকার বাড়িতেছে। তবে দেশের গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করা হইয়াছে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে বরাদ্দ লইয়া। সকল মহলেরই প্রত্যাশা ও ধারণা ছিল—গবেষণায় হয়তো বরাদ্দ বাড়িবে। টাকার হিসাবে তাহা বাড়িয়াছেও; কিন্তু মোট বরাদ্দের আকারের হিসাবে তাহা বাড়ে নাই। অর্থাত্ এই অর্থবত্সরে বরাদ্দ দেওয়া হইয়াছে ৪০ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা, গত বত্সর যাহা ছিল ৪০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। প্রশ্নটি হইল, মোট আকার প্রায় ৬০ কোটি টাকা বাড়িলেও সেই অনুপাতে গবেষণায় বাড়িল না কেন।
এই ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়। ২০১৩-১৪ অর্থবত্সরে এই গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবত্সরে ছিল ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। সেই তুলনায় আজ যে অনেক দূর আগাইয়াছে তাহাতে কোনো সন্দেহ আছে কি?
নিঃসন্দেহে গবেষণার জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন রহিয়াছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকেন্দ্র রহিয়াছে ৫৬টি। বর্তমান সময়ের গবেষণার ধরন পালটাইয়াছে। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা আরো ব্যয়বহুল; কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও বর্তমানে ডাটা সংগ্রহ করিতে হয়, কিছু সরঞ্জাম কিনিতে হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হয়। এতগুলি কেন্দ্রের সার্বিক খরচের জন্য ৪০ কোটি টাকা যথেষ্ট নহে, ইহা যুক্তিসংগত; কিন্তু যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য শিক্ষক বিদেশ হইতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করিয়া, বিদেশি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহিত গবেষণাসংশ্লিষ্ট থাকিয়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রহিয়াছেন। আমরা তাহাদের আউটপুটও পাইতেছি না। গবেষণায় বরাদ্দ স্বল্প হওয়ার পরও সেই অর্থ পুরাপুরি খরচ করা যায় না।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় কোন মানের তাহা নির্ভর করে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানের উপর। শিক্ষকদের মূল্যায়ন ও মানও তৈরি হওয়ার কথা গবেষণার উপর অনেকটাই ভিত্তি করিয়া। তাহা কি আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেখিতে পাই? অভিযোগ রহিয়াছে, মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিম্নমুখী। আরো অভিযোগ আছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের কনসালটেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে বিঘ্নিত করিতেছে। সেমিনারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিতেছে গবেষণার কাজ। সুতরাং সীমাবদ্ধ সামর্থ্যের মধ্য দিয়াই গবেষণার কাজে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের মনোযোগ দিতে আমরা অনুরোধ জানাইব। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে যেমন বরাদ্দ বাড়িয়াছে, ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আরো বাড়িবে। এবং তাহা আমার তুলনায়ও অধিক হইবে বলিয়া আমরা আশা করি; কিন্তু যতটুকু আছে, তাহার সদ্ব্যবহার যেন সঠিকভাবে হয়, সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ ও প্রতিশ্রুতিশীল হইতে হইবে।
