জিজ্ঞাসাবাদে চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে সাহেদ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ২১:৪৭

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রস্তুতকারী হিসাবে অভিযুক্ত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে জব্দকৃত অস্ত্র ও গুলির সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সে চতুরতার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৬’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। 

র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রওসোনুল ফিরোজ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা-৬’ এর কার্যালয়ে সাহেদ করিমকে আনার পর থেকেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গতকাল মঙ্গলবারও তাকে কয়েকদফা জিজ্ঞাবাদ করা হয়েছে। তিনি জানান, সোমবার খুলনায় আনার পর সাহেদকে  ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। সে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে। 

র‌্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্প কমান্ডার  সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বজলুর রশিদ জানান, সাহেদকে গ্রেফতারের সময় জব্দ অস্ত্র ও গুলির তথ্যসহ নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে তাকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করা হবে।

এদিকে, র‌্যাব-৬’র একটি সূত্র জানায়, বহুমুখী প্রতারক সাহেদ অত্যন্ত চতুর। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে জব্দকৃত অস্ত্র ও গুলির সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্নভাবে চতুরতার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: যশোরে বজ্রপাতে ছেলে নিহত বাবা আহত

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত সোমবার সন্ধ্যায় করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রস্তুতকারী রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদকে ঢাকা থেকে খুলনা র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে আনা হয়। এর আগে গত ২৩জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম সাতক্ষীরার ভার্চৃয়াল আদালতে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ২৬ জুলাই আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার রায় শুনানি শেষে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রস্তুতকারী রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিম আত্মগোপন করেছিলো। এরপর গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী দেবহাটা উপজেলার কমলপুর গ্রামের ইছামতি খালের নৌকায় করে ভারতে পালানোর সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় সে। এসময় তার কাছ থেকে  অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব। 

ইত্তেফাক/এএএম