এ টি এম আনোয়ারুল কাদির
আজ আমাদের দেশের ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ নামে প্রথম ৮টি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এই ৮টি ডাকটিকিট বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা জানি, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। দেশে তখন যুদ্ধ চলছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা একরকম বিচ্ছিন্ন। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কেন্দ্রীয় ডাকঘরসহ বেশ কয়েকটি ফিল্ড পোস্ট অফিস স্থাপন করে। এপ্রিল মাসের শেষদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ও ব্রিটিশ ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল জন স্টোন হাউজ মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে বলেন, মুক্তাঞ্চলে চিঠি আদান-প্রদানে বাংলাদেশ নামে ডাকটিকিট ব্যবহার করা হলে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। মুজিবনগর সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে। ২৯ এপ্রিল জন স্টোন হাউজ অপ্রত্যাশিতভাবে টেলিফোনে লন্ডন প্রবাসী ভারতীয় বাঙালি নকশাকার বিমান মল্লিককে ডাকটিকিট নকশার দায়িত্ব দেন এবং বিমান মল্লিক বিনা পারিশ্রমিকে সেই দায়িত্ব পালন করেন। বিমান মল্লিকের ডিজাইন করা ডাকটিকিটগুলো মুজিবনগর সরকার অনুমোদন করে। এরপর ২৬ জুলাই লন্ডনের হাউজ অব কমন্সে জন স্টোন হাউজ ও প্রবাসে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এই ৮টি ডাকটিকিট দেখিয়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য জোর দাবি উত্থাপন করেন। এর ফলেই পশ্চিম জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড ও জাপানসহ বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পক্ষে চলে আসে।
ঐ ৮টি ডাকটিকিট একযোগে মুজিবনগর, কলকাতার বাংলাদেশ মিশন ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। আর এ কারণে বাংলাদেশ নামে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশের তারিখ ২৯ জুলাইকে ২০০৩ সাল থেকে ফিলাটেলিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি) ‘ডাকটিকিট দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করে আসছে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ডাকটিকিট দিবস উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ খাম প্রকাশ করে। ২০০৮ সালের ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো ৫০ টাকা মূল্যমানের একটি সুভেনির শিট প্রকাশিত হয়, এর নকশা করেন জসিম উদ্দিন। এই সুভেনির শিটে প্রথম ৮টি ডাকটিকিটের ছবি স্থান পায়। ২০১৫ সালে বিমান মল্লিক ডাকটিকিট দিবসের জন্য ১০ টাকা মূল্যমানের একটি ডাকটিকিটের ডিজাইন করেন। পরবর্তী তিন বছর ১০ টাকা মূল্যমানের একটি করে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে শিশু-কিশোরদের মাঝে ডাকটিকিট সংগ্রহকে জনপ্রিয় করতে ফিলাটেলিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি)-এর সহযোগিতায় মনসিজ আর্ট একাডেমি ৯ থেকে ১৯ অক্টোবর ঢাকার আঁলিয়স ফ্রঁসেজে শিশুশিল্পীদের আঁকা ডাকটিকিট বিষয়ক চিত্রকর্ম দিয়ে ‘ডাকটিকিটে দেখি আমার দেশ’ শিরোনামে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ঐ প্রদর্শনীর ‘খ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী সাদিয়া আফরিন লামিয়ার আঁকা ছবি ‘চল দেখি বায়োস্কোপ’ দিয়ে ২০১৯ সালে ডাকটিকিট দিবসে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এ বছরও হবে। তবে সরকার ডাকটিকিট দিবস উদ্যাপনের কোনো গেজেট আজো প্রকাশ করেনি।
