বঙ্গবন্ধু খাস জমি বা জলাশয়গুলো ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছিলেন। তখন যে কেউই এইসব খাস জলাশয় থেকে মাছ ধরতে পারত। এইসব জলাশয় ছিল দেশীয় মাছের আশ্রয়স্থল। সময়ের পরিক্রমায় জলাশয়গুলো এখন লিজ দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী জলমহালগুলো প্রকৃত মত্স্যজীবী সমিতির পাওয়ার কথা থাকলেও ছল-চাতুরির মাধ্যমে এলাকার প্রভাবশালী মহল জলমহালগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। অধিক মুনাফার লোভে এইসব খাস পুকুরে কার্প জাতীয় মাছ চাষের ফলে একদিকে দেশীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে ভূমিহীন গরিব মানুষগুলো হচ্ছে বঞ্চিত। এক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করত এইসব জলাশয়। বাজারে দেশীয় মাছের চড়া মূল্য ও সরকারি জলাশয়গুলো লিজ দেওয়ার কারণে দেশীয় মাছের স্বাদ আস্বাদন এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। সরকারের উচিত, খাস জলাশয়গুলো প্রকৃতি মত্স্যজীবী এবং প্রান্তিক মানুষদের বরাদ্দ দেওয়া, নয়তো কিছু জলাশয়ের লিজ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে উন্মুক্ত করা। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী খুশি হবে।
আবদুস সবুর প্রামাণিক
মত্স্যজীবী এবং কৃষক, পুণ্ডুরিয়া, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট
