ভারতের পথে ফ্রান্সের অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ২১:৩২

চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান নিজ মাটিতে পেতে যাচ্ছে ভারত। সোমবার ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় মেরিগনেক ঘাঁটি থেকে রওনা দেওয়া পাঁচটি বিমান বুধবার ভারতে পৌঁছাবে। ঐদিনই হরিয়ানার আম্বালা ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে ফরাসি প্রতিষ্ঠান দাসল্টের তৈরি এসব যুদ্ধবিমান। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি রুপিতে অত্যাধুনিক ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে চুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে সবগুলো বিমান ভারতের কাছে হস্তান্তরের কথা। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিমান হস্তান্তরে বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষই বলছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব বিমান হস্তান্তর সম্ভব হবে।

প্রথম চালানে পাঁচটি রাফাল বিমান হস্তান্তরের পাশাপাশি এগুলো পরিচালনায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর ১২ জন পাইলট ও আট প্রকৌশলীকে পূর্ণ প্রশিক্ষণ দিয়েছে ফ্রান্স। প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসব যুদ্ধবিমান ফ্রান্স থেকে ভারতে পৌঁছাবে। ফ্রান্সের ভারতীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত সময়ে ১০টি (রাফাল) যুদ্ধবিমান হস্তান্তর সম্পূর্ণ হবে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রশিক্ষণ মিশনে ফ্রান্সেই থাকবে। নির্ধারিত সূচি মেনে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৬টি বিমানের সবগুলো হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।’ ফ্রান্স থেকে বিমান নিয়ে রওনা দেওয়ার আগে ভারতীয় পাইলটদের সঙ্গে দেখা করেন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জাওয়াদ আশরাফ। উল্লেখ্য, ৫৯ হাজার কোটি রুপিতে ভারত শুধু ৩৬টি যুদ্ধবিমান পাচ্ছে তা নয়। ফ্রান্সের কাছ থেকে আনুষঙ্গিক অস্ত্রশস্ত্রও পাবে। এর মধ্যে রয়েছে মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্র। পৃথিবীতে যত রকমের আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এই মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্রকে অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয়। শব্দের চেয়ে চার গুণ জোরে ছোটে এই ক্ষেপণাস্ত্র। রাফাল যুদ্ধবিমান এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আকাশে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা শত্রু বিমানকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাফাল এবং মিটিওরের এই যুগলবন্দি গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যের ছবি বদলে দেবে। রাফাল যুদ্ধবিমানের মতো ডাবল ইঞ্জিন মালটি-রোল অল ওয়েদার ফাইটার এয়ারক্র্যাফট আকাশে যেভাবে দাপট দেখাতে পারে, ভারতের দুই প্রতিপক্ষ চীন এবং পাকিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমানই তার ধারেকাছে আসে না। অনেক উচ্চতা থেকে এবং অনেক দূরত্ব থেকে ভূপৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে রাফাল।