এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন :চীন
আলজাজিরা
এবার হংকংয়ের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্থগিত করল নিউজিল্যান্ড। শহরটির ওপর চীনের জাতীয় নতুন নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের প্রতিবাদে এই স্থগিতের ঘোষণা করা হয়। এদিকে ওয়েলিংটনে চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে গর্হিত হস্তক্ষেপ।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী উইনস্টিন পিটার গতকাল এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, হংকংয়ের ওপর যে নতুন নিরাপত্তা আইনটি চালু করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিউজিল্যান্ড আর বিশ্বাস করতে পারছে না যে হংকংয়ের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা চীন থেকে যথেষ্ট স্বাধীন। আর এ কারণেই তারা প্রত্যর্পণ চুক্তিটি স্থগিত করছে। আইনটির প্রতিবাদে এর আগে হংকংয়ের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি বাতিল করেছিল যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। হংকংয়ের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি চীনের ওপর আরোপ করেছে একাধিক নিষেধাজ্ঞা। এ অবস্থায়ই চতুর্থ দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড এ ঘোষণা দিল। নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ প্রত্যর্পণ চুক্তি স্থগিতের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এটা চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে এ ধরনের গর্হিত হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। এক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস বলেছে, নিউজিল্যান্ড সরকারের সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক আইনের ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনাবিষয়ক মৌলিক নিয়মগুলোর গুরুতর লঙ্ঘন। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, হংকংয়ের সঙ্গে সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারের পণ্য ও প্রযুক্তি রপ্তানি চীনের মূল ভূখণ্ডের মতোই করা হবে। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, নতুন নিরাপত্তা আইনটির মাধ্যমে হংকংয়ের সঙ্গে করা ‘এক দেশ, দুই নীতি’ ব্যবস্থাকে হেয় করা হয়েছে। এটি আইনের শাসননীতিকে ধ্বংস করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
