নওগাঁর পশুর হাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ২১:৪৮

দাম কম হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর কোরবানির পশুর হাট এবার খানিকটা দেরিতে জমে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে গরু উঠছে প্রচুর। স্থানীয় ক্রেতা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় বাজারের মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা গরু কিনছেন। তবে দাম কম এবং বেচাবিক্রি আগের বছরগুলোর তুলনায় কম হওয়ায় খামারি ও গৃহস্থের অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

জেলার সবচেয়ে বড় গবাদিপশুর হাট মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। পশুর হাটের জন্য নির্ধারিত স্থানে জায়গা না হওয়ায় পাশের রাস্তা ও কৃষি জমিতেও হাট বসানো হয়েছে। ভটভটি, নছিমন ও ট্রাকে করে হাটে গরু আসছে। রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহনী হাটের ইজারাদার বেদারুল ইসলাম, আবাদপুকুর হাটের ইজাদার শহিদুল ইসলাম ফটিক বলেন, গতবারের তুলনায় এবার হাটে গরুর আমদানি বেশি। ছোট ও বড় গরুর তুলনায় মাঝারির চাহিদা বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার সব ধরনের গবাদিপশুর দাম কম রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষই দাম নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে আমদানির তুলনায় এখনো বেচাবিক্রি কিছুটা কম। শেষ হাটে ঢাকা-চট্টগ্রামের গরু ব্যবসায়ীরা এলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গরু কিনতে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, ৫৫ হাজার টাকায় মাঝারি আকারের গরু কিনলাম। গতবার এ ধরনের গরু ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে তুলনায় এবার দাম কিছুটা কমই। গরু ব্যবসায়ি শরিফুল ইসলাম বলেন, বড় আকৃতির ১০টি গরু এনেছেন। প্রতিটি গরুর দাম ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু দাম বলছে ৮০-৮৫ হাজার টাকা করে। এর আগে আরো দুটি হাট ঘুরেছেন। কিন্তু প্রত্যাশার দাম না পাওয়ায় গরুগুলো বিক্রি করেননি। শেষ হাট পর্যন্ত এ রকম দাম থাকলে বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েই গরু বিক্রি করতে হবে। জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, জেলার প্রতিটি কোরবানির হাটেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তের জন্য মেশিন বসানো হয়েছে। পুলিশ বাহিনীসহ অন্য নিরাপত্তাকর্মীরা হাটের দিন টহল অব্যাহত রেখেছে। আশা করি কোরবানির হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নিরাপদে পশু কেনাকাটা করতে পারবেন। এছাড়াও ভারত থেকে গরু আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।