সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শ্রমিক ইউনিয়নের

কমলগঞ্জে দলই চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা শ্রমিকদের ক্ষোভ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ২২:০৮

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন দলই চা-বাগান আকস্মিকভাবে বন্ধ (লক আউট) ঘোষণা করা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কারখানার অফিসে নোটিশ টানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দলই চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করে। এ ঘটনায় শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালি এক সভা থেকে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অফিসের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কতিপয় শ্রমিক কর্মচারীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করছে।

মঙ্গলবার সরজমিন দলই চা-বাগানে দেখা যায়, চা-বাগান কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক এম এম ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ অফিসের বোর্ডে টানিয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য চা-বাগান সম্পূর্ণ (লক আউট) বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নোটিশে চা-বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে এ অবস্থায় চা-বাগানে নিরাপত্তার অভাবে দলই চা-বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে আকস্মিকভাবে চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাগানের শত শত নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা দলই অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। এ ঘটনায় চা-বাগানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মঙ্গলবার সকাল থেকে অফিসের সামুনে এক প্লাটুন পুলিশ অবস্থান করছে। বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালি কার্যকরী কমিটি মঙ্গলবার দুপুরে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে চা-বাগান আকস্মিক বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে মনু-দলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ধনা বাউরী ও সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা স্বাক্ষরিত কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদনে দলই চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বে-আইনি, একতরফা ও উসকানিমূলক বাগান বন্ধের নোটিশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।