রানা শিকদার। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরায়। বছর খানেক আগেও ‘আমি শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন বলছি, কালা জাহাঙ্গীর বলছি’—মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবীদের এমন হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করত সে। প্রাণের ভয়ে অনেকে চাঁদা দিয়েছেনও; কিন্তু বর্তমানে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করা ঝুঁকিপূর্ণ। পুলিশ ফোনের সূত্র ধরে ফেলে। চাঁদা দাবি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে। আর এ অবস্থায় ‘কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী’ বলে চাঁদা দাবি করা ছেড়ে দিয়েছে। রানা একাই নয়, তার মতো আগে যারা মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করত তারা অনেকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষকে অজ্ঞান করে টাকাপয়সা কেড়ে নেওয়ার কৌশল। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে রানা শিকদার। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সোমবার রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে রানা ও তার সাত সহযোগীকে গ্রেফতার করে। ডিবি পুলিশ গতকাল তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
অভিযান পরিচালনাকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা আসন্ন ঈদ ও কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় ছিল। তিনি জানান, লালবাগ এলাকায় কোরবানির পশুর হাটকে টার্গেট করে কতিপয় অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্য সেখানে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতার করা হয় দলনেতা রানা শিকদার ও সাত সহযোগীকে। অন্য সহযোগীরা হলো—জুম্মাত, সোহেল রানা, বিল্লাল, মোহাম্মদ আলী হোসেন, মোহাম্মদ সোহেল, জহুরুল ও মোহাম্মদ হেলাল। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০০ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, তরল রাসায়নিক , মলম ও মরিচের গুঁড়া।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানিয়েছে, শুরুতেই তারা ধোলাইখাল এলাকার পশুর হাটে আগত ব্যাপারী ও ক্রেতাদের কৌশলে অজ্ঞান করে তাদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। আর সে মোতাবেক তারা লালবাগ এলাকায় বসে পরামর্শ করছিল। তবে ইতিমধ্যে তারা তিন জনকে অজ্ঞান করে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিয়েছে।
সাইফুর রহমান আজাদ জানান, রানার বিরুদ্ধে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। তার অপর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও পাওয়া গেছে একাধিক মামলা। মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়ে কারাগারে গিয়েছিল রানা। কারাগারেই পরিচয় হয় অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের সঙ্গে। মানুষকে অজ্ঞান করে টাকা লুটে নেওয়া প্রক্রিয়া সেখানেই রপ্ত করে সে। জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথমে অজ্ঞান ও মলম পার্টিতে কাজ করত। পরে নিজেই দল গঠন করে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনালে জড়ো হয়ে পরিকল্পনা করে। তবে কোরবানির ঈদের সময়টাই তাদের প্রতারণার উপযুক্ত সময়।
