দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার ১৪৩ দিনের মাথায় সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারের ঘর ছুঁইছুঁই করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে মারা গেছে ১ হাজার ৪৪৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৮ দশমিক ১৩ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেক। আর বয়স বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ৫১ বছরের বেশি বয়সিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত আরো ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার। গত এক দিনে আরো ২ হাজার ৯৬০ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ১৮৫ জন। আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ১ হাজার ৭৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১৪ জন হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা মঙ্গলবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তার ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়। প্রায় এক মাস পর ২০ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছিল, তা ৫০০ ছাড়ায় গত ২৫ মে। এরপর ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। দেড় হাজার ছাড়ায় ২২ জুন। করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ৮৫ দিন পর ৫ জুলাই মৃতের সংখ্যা ২ হাজারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। এরপর তা আড়াই হাজারের ঘর ছাড়িয়ে যায় ১৭ জুলাই। মঙ্গলবার সেই সংখ্যা ৩ হাজারের ঘর স্পর্শ করল। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। কোভিড-১৯-এ মৃত ৩ হাজার জনের মধ্যে বয়স বিভাজনে দেখা গেছে, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, যা মোট মৃত্যুর দশমিক ৬০ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ১ দশমিক শূন্য শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৪ জন, ২ দশমিক ৮০ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০০ জন, ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪২৫ জন, ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮৬৯ জন, ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ১ হাজার ৩৭৪ জন, ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ পর্যন্ত বিভাগ অনুযায়ী মারা গেছে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৪৪৪ জন, ৪৮ দশমিক ১৩ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৩১ জন, ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে ১৭৭ জন, ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ; খুলনা বিভাগে ২১২ জন, ৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে ১১৫ জন, ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ; সিলেটে ১৪৪ জন, ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ; রংপুর বিভাগে ১১৩ জন, ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, ২ দশমিক ১৩ শতাংশ।
৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তা ২ লাখ পেরিয়ে যায় ১৮ জুলাই। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। ড. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। গতকাল মঙ্গলবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৫৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।
