সিলেটের এক গ্রামে সাড়ে তিনশ প্রতিবন্ধী

অর্থ সহায়তা ও উপহার পাঠানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ২২:৪৮

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রাম। জনসংখ্যা ৫ হাজার ৫০০। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এ গ্রামের প্রায় ৩৫০ জন প্রতিবন্ধী, সিংহভাগই আবার শিশু। মানবিক এ বিষয়টি নজরে আসে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার। তিনি বিষয়টি বড়  বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে আনেন। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নেন। তিনি আমতৈল গ্রামের প্রতিবন্ধীদের জন্য জনপ্রতি অর্থসহায়তা এবং উপহারসামগ্রী পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের সুস্থতা এবং ভবিষ্যতে সুস্থ প্রজন্ম নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গ্রামের সব প্রতিবন্ধীকে বিশেষ প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে বলেছেন। এছাড়া ঐ গ্রামের সবাইকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাউন্সেলিং করা; নিজ বাসস্থানসহ আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; খাদ্যের সব পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে ভিটামিন সাপ্লিমেন্টারি ওষুধ সরবরাহ এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে গ্রামটির সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ সিস্টেম চালু এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের নির্দেশনা দেন। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের চাহিদা মোতাবেক বহুমাত্রিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করে প্রতিবন্ধী স্কুল স্থাপন ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ, চাহিদামাফিক প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ যেমন—হুইল চেয়ার, ট্রাইসাইকেল, হেয়ারিং ডিভাইস ও দৃষ্টিসহায়ক উপকরণ সরবরাহের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এক গ্রামে এত বেশিসংখ্যক প্রতিবন্ধী কেন—এমন প্রশ্নে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস জানায়, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম। গ্রামের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা, মাতৃকালীন স্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে এখানকার অনেক শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নিচ্ছে। কেউ বা আবার জন্মের পর বিভিন্ন অসুখে ভুগে প্রতিবন্ধী হচ্ছে।