আত্মসচেতনতা জাগিয়া উঠুক

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ২১:৩৯

এইবার এমন একটি সময় ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হইতে যাইতেছে যখন সমগ্র বিশ্ব কোভিড মহামারির প্রকোপে তটস্থ। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে প্রতি বত্সর বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে গিয়া আনন্দ উদ্যাপন করে। কিন্তু এইবার ঢাকা ছাড়িবার ঘটনা নগণ্য বলা যায়। এমনিতেই ঢাকায় কাজ হারাইয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ গত চার মাসে ঢাকা ছাড়িয়াছে। তাহার উপর এইবার বন্যার পদধ্বনি শুনা যাইতেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তাই যাহারা এখন ঢাকায় রহিয়াছেন, তাহাদের সিংহভাগই ঢাকায় অবস্থান করিয়াই ঈদ পালন করিবেন। সুতরাং ঢাকায় এইবার পশু কোরবানির সম্ভাবনাও অধিক। কোরবানির পরপরই আমাদের প্রধান ইস্যু হইয়া দাঁড়ায় কোরবানির বর্জ্য। যদিও দুই সিটি করপোরেশন বুধবার ঘোষণা করিয়াছে, তাহারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করিবে। তবে বিষয়টা খুব সহজ নহে।

পরিবেশদূষণ রোধকল্পে ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ে কার্যক্রমকে মূলত তিনটি পর্যায়ের অধীনে পরিকল্পনা করা হইয়াছে। ইহা হইল—এক. কোরবানির পশুসংখ্যার নিরিখে কোরবানির স্থান নির্ধারণ ও কোরবানি প্রদানের উপযোগীকরণ, জনমত গঠন ও প্রচার, বেসরকারি উদ্যোগকে উত্সাহ প্রদান, সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ ও তাহার সংস্থান; দুই. সুষ্ঠুভাবে কোরবানি প্রদান নিশ্চিতকরণ এবং তিন. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। কোরবানির শেষ পর্যায়টি অর্থাত্ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে বাকি দুইটি পরিকল্পনার উপর। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই বত্সর দেশে কোরবানিযোগ্য মোট গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ। ইহার মধ্যে ঢাকায় কোরবানি দেওয়া হইবে বড় একটি অংশ। সুতরাং এইবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটার দিকটা আরো অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, কোরবানি দেওয়া পশুর রক্ত, ব্যবহূত চাটাইসহ যাবতীয় আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলিয়া দেওয়া হইলে দ্রুত জীবাণু সংক্রমণসহ দুর্গন্ধ ছড়াইতে থাকে। ইহাতে বায়ু, পানি ও মাটি—তিনটি প্রাকৃতিক উপাদানই দূষিত হয়, যাহার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রহিয়াছে। মনে রাখিতে হইবে, কোরবানি দারুণ এক মহিমার বিষয়। ইহা শুধু পশু জবাই নহে, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্নতারও বিষয়। সুষ্ঠুভাবে কোরবানি না দিলে যদি পরিবেশ দূষণ ঘটে—তাহা ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ হইতেও গ্রহণযোগ্য হইবে না। সুতরাং পশু জবাই করিবার পর রক্ত সঙ্গে সঙ্গে ধুইয়া ফেলিতে হইবে। রক্তধোওয়া পানি যেন রাস্তা বা বাড়ির আঙিনায় জমিয়া না থাকে, সেই ব্যাপারে সচেতন হইতে হইবে। প্রবহমান নর্দমায় বহিয়া দিতে হইবে। ইহা পানি স্থির হইয়া জমিয়া থাকিলে তাহাতে দুর্গন্ধ ছড়াইবার পাশাপাশি মশা ও জীবাণু জন্মাইবে এবং একসময় শুকাইয়া ধুলাবালির সহিত উড়িয়া তাহা নিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করিতে পারে। সুতরাং এই সকল সমস্যা হইতে রক্ষা পাইতে একটু সচেতনতাই যথেষ্ট।

মনে রাখিতে হইবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। ইহার জন্য শুধু সরকারি পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করিলে চলিবে না। এলাকাভিত্তিক ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত ছোট ছোট পদক্ষেপ বৃহত্ আকারে কার্যকর ভূমিকা রাখা উচিত। অতএব কোরবানির মাধ্যমে আত্মত্যাগের পাশাপাশি আত্মসচেতনতার শিক্ষাও গ্রহণ করিতে হইবে।