ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে বিধিমালায় আনার উদ্যোগ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ২৩:০১

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য পৃথক বিধিমালা থাকলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। ফলে নিজ খেয়াল-খুশিমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে এ বিধিমালা করা হলেও তা পালনে শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। বিধিমালা অনুযায়ী ইংরেজি কারিকুলামে পরিচালিত এই স্কুলগুলোর জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও নিবন্ধন করেনি এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিউশন ফি আদায়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে। করোনার সময় শিক্ষাবিভাগের পক্ষ থেকে সহনশীল হবার জন্য অনুরোধ করা হলেও তা আমলে নেয়নি এই প্রতিষ্ঠানগুলো। উলটো টিউশন ফি আদায়ে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও জমা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

এবার  বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব স্কুলে বিধিমালা অনুসারে ফি আদায় ও অভিভাবকদের খরচের হিসাব দেওয়া নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে নিবন্ধন ও নিবন্ধনবিহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তালিকা পাঠাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।    

শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৭’       অনুযায়ী এসব স্কুলগুলোকে নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া বিধিমালা অনুযায়ী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর সহপাঠ কার্যক্রমের জন্য কোনো ফি নেওয়া হলে তা খরচের হিসাব দিতে হবে অভিভাবকদের। সেখানে টিউশন ফি, ভর্তি ফি, খেলাধুলা ফি, গ্রন্থাগার ফি, টিফিন ফি, মুদ্রণ ফি ও অন্যান্য ফির বিবরণ উল্লেখ করার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরামের আহ্বায়ক এ কে এম আশরাফুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইংরেজি মাধ্যমের কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব অভিভাবকদের জানায় না। আমরাও চাই কোন খাতে কত ফি নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে তা খরচ করা হচ্ছে তা আমাদের জানানো হোক। তবে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে তুলে ধরে এমনটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জি এম নিজাম উদ্দিন।

নাজমা আক্তার নামে এক অভিভাবক জানান, বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার জন্য যে বিধিমালা রয়েছে তা আমরা এতদিন জানতে পারিনি বা আমাদের জানানো হয়নি। প্রায় তিন বছর আগে বিধিমালা করা হলেও তা কেন শিক্ষা বিভাগ বাস্তবায়ন করেনি এটা নিয়ে শিক্ষা বিভাগকেই প্রশ্ন করা যায়।

তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য জানা তো দূরের কথা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোনো অনুরোধই শুনতে চায় না। প্রতি বছর টিউশন ফি বাড়ানো হয়। কেন বাড়ানো হলো। এ বিষয়ে কোনো কথাই বলা যায় না। তিনি যথাযথভাবে এই বিধিমালা পালনে বাধ্য করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করেন।