শিমুলিয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় সচল করা হয়েছে রো রো ফেরিঘাট। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাত্ করে পদ্মার ভাঙনে শিমুলিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এতে চরম বিপাকে পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। ২ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ঐ ঘাট দুটিও বন্ধ রাখা হয়। পরে ২ নম্বর ফেরিঘাটটি রো রো ফেরি চলাচলে সক্ষমতা তৈরি করা হয়। গতকাল বুধবার সকাল থেকে এই ঘাট দিয়ে রো রো ও বড় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। সচল ১ নম্বর ও ২ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে ছোট ফেরি চলাচল করছে। ১৭ ফেরির মধ্যে চলছে এখন ৯ ফেরি। চালু আছে তিনটি ঘাট। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে যাত্রী ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে। বুধবার শিমুলিয়ায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর তেমন কোনো চাপ ছিল না। সকালে এই ঘাটে কিছুটা চাপ থাকলেও বিকালে ছিল ফাঁকা। বিকালে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল মাত্র ২০/৩০টি গাড়ি। ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি। তাই বৃহস্পতিবার এ নৌরুটে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভেঙে যাওয়া ঘাট মেরামতে কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মার আকস্মিক ভাঙনে শিমুলিয়ায় ৩ নম্বর রো রো ফেরিঘাটটি বিলীন হয়ে যাওয়ার পর ঈদে যাত্রী পারাপারে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর সহযোগিতায় ২ নম্বর ঘাটটির রো রো ফেরি চলাচলের সক্ষমতা তৈরি করে চালু করতে সক্ষম হই। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্রোত এখন বিপত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গেল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে।
বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী (প্রকৌশল) হারিস আহমেদ পাটোয়ারী জানান, ভাঙন রোধে ৩ নম্বর রো রো ফেরিঘাটের ঐ স্থানে মঙ্গলবার রাত থেকেই বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। প্রথমিকভাবে ১০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভাঙন না থামে ততক্ষণ ভাঙন রোধে যা যা করার দরকার তা-ই করা হবে। তবে ঈদের পূর্বে ৩ নম্বর ঘাটটি চালু করা সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মার ভাঙনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ফেরি ঘাটের ৩ নম্বর রো রো ফেরিঘাটটি বিলীন হয়ে গেলে রো রো ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। ভাঙনের ফলে একটি মসজিদসহ অনেকগুলো দোকান ও টয়লেট ভবনসহ ঘাটের একাংশ পদ্মায় বিলীন হয়। হুমকির মুখে পড়ে ভিআইপি ফেরি ঘাটটিও। এতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে চরম দুর্ভোগের শিকার হবার আশঙ্কা করা হয়। তবে অতিদ্রুততার সঙ্গে ২ নম্বর ঘাটটিকে রো রো ফেরিঘাটে রূপান্তর করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
