সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে দেশের ৬০ ভাগ মানুষ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ২১:৩৪

সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে ভালো করলেও বাংলাদেশে বৈষম্য বাড়ছে। মহামারি মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক কর্মসূচি যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়। ‘কোভিড-১৯ ও বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ তথ্য উল্লেখ করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুল হক খন্দকার। বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি টোমো হজুমি। সানেমের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুল হক খন্দকার ওয়েবিনারে বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজিজুল আলম, সানেম এর গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং বিশ্বব্যাংক এর সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আনিকা রহমান। মূল প্রবন্ধে ড. বজলুল হক খন্দকার উল্লেখ করেন, শহর ও গ্রামে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিস্তারের অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। জনমিতি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ের মধ্যে ফারাক আছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই ‘এক্সক্লুশন এরর’। ০-৫ বছরের বয়সের শিশু, যারা পুরো জনসংখ্যার ৯ শতাংশ, তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়। অন্যদিকে বয়স্কদের জন্য, যারা জনসংখ্যার ৮ শতাংশ, তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাজেটের ৭২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উন্নয়নের জন্য তিনি কিছু প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে আছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ স্থাপন করা, সার্বজনীন শিশু ভাতা ও বৃদ্ধ ভাতা প্রচলন, জনমিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করা, কনট্রিবিউটরি পেনশন চালু করা ইত্যাদি। আলোচনায় ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন ১৪০-১৪৫টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মধ্যে মাত্র ৬-৭টি শহরের বস্তিগুলো নিয়ে কাজ করে। হালনাগাদ ডাটাবেইজ এবং ‘এক্সক্লুশন এরর’ হ্রাস করতে হবে। মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও চলমান মহামারির জন্য তা বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ড. সেলিম রায়হান বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে উন্নত ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির জন্য জরুরি হলেও যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে কার্যকর করা সম্ভব নয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টোমো হজুমি বলেন, চলমান মহামারি আমাদের উন্নয়ন ধারা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। ‘এক্সক্লুশন এরর’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য জায়গাতেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণে একটি সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বনের প্রতি জোর দেন তিনি।