ইয়াজিদি শিশুরা এখনো ভুলতে পারেনি আইএসের নৃশংসতা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ২২:৩৮

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেসের (আইএস) জিম্মিদশায় যৌন নিপীড়ন, সহিংসতা ও নিষ্ঠুর নিপীড়ন থেকে বেঁচে ফেরা ইরাকের সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুরা এখনো শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। আইএসের নৃশংস নিপীড়নের শিকার এ শিশুরা এখন মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার লড়াই করছে।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ২০১৪ সালে আইএসের তাণ্ডবলীলায় সে সময় ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের অনেক শিশু নিহত হয়। আইএসের জিম্মিদশা থেকে বেঁচে ফেরা প্রায় ২ হাজার শিশুর চিকিত্সাসেবার দরকার হলেও তারা তা পায়নি। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ঐ শিশুরা একেবারে পরিত্যক্ত অবস্থায় দিন পার করছে। তাদের দীর্ঘ মেয়াদে জরুরি সহায়তা দরকার।

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) যখন ইয়াজিদিদের পিতৃভূমি ইরাকের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তখন সংখ্যালঘু এ সম্প্রদায়ের সদস্যরা সিনজার পর্বতে পালিয়ে যায়। এ সময় অনেক ইয়াজিদিকে হত্যা করে আইএস। প্রায় ৭ হাজার নারী ও তরুণীকে অপহরণের পর দাসী হিসেবে নিজেদের কব্জায় রেখে দেয় আইএস। যাদের অনেকেই এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যদের ধর্ষণের শিকার হয়। আইএসের লড়াইয়ে ইয়াজিদি কিছু ছেলের অঙ্গহানি ঘটে। কিছু মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়, যাদের সন্তান ধারণের বয়সই হয়নি।

বহু ইয়াজিদি নারী আইএস জঙ্গিদের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ইয়াজিদি নারীদের সন্তানদের বিদেশে পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ইরাকের উত্তরাঞ্চলে কয়েক ডজন ইয়াজিদি নারীর সাক্ষাত্কার নিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, বেঁচে যাওয়া শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়ক্ষতিতে ভুগছে। শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ইয়াজিদি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি বলছে, ইয়াজিদি নারীরা আইএস যোদ্ধাদের বিয়ে করতে বাধ্য হন। এ নারীরা বর্তমানে প্রচণ্ড মানসিক ক্ষত সামলানোর লড়াই করছেন। ২২ বছর বয়সি ইয়াদিজি তরুণী অ্যামনেস্টিকে বলেন, ‘আমি এই বিশ্বের প্রত্যেককে এবং আমাদের সম্প্রদায়কে বলতে চাই, দয়া করে আমাদের গ্রহণ করুন, আমাদের সন্তানদের গ্রহণ করুন।’