দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার রহস্যময় লাল গ্রহ মঙ্গলের উদ্দেশে উড়ে গেল নাসার মঙ্গলযান ‘পারসিভিয়ারেন্স’। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ৫টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আটলাস ভি-৫৪১ রকেটে চেপে মঙ্গলের দিকে উড়ে গেল ‘পারসিভিয়ারেন্স রোভার’। এই যান নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছে নাসা। এটি আগে পাঠানো রোভারগুলো থেকেও শক্তিশালী এবং ‘বুদ্ধিমান’। এতে ছয়টি চাকা রয়েছে। রয়েছে ছোটখাটো একটা ল্যাবরেটরিও। আগামী বছর, অর্থাত্ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মঙ্গলের মাটিতে পা দেবে এই যান।
এই যানের মতো এত উন্নত যান এর আগে মঙ্গল অভিযানে যাত্রা করেনি। এর আগে মঙ্গল গ্রহের রহস্য ভেদ করতে পাঠানো হয় কিউরিওসিটিকে। তবে কিউরিওসিটির কিছু ঘাটতি ছিল। সেই ঘাটতি পূরণ করেছে পারসিভিয়ারেন্স। কিউরিওসিটিও বর্তমানে রয়েছে মঙ্গলে। ২০১২ সালে এই যানকে পাঠানো হয় সেখানে। তারপর আট বছর কাটিয়ে দিয়েছে সে। মঙ্গলের মাটি খুঁড়ে, নিচু উপত্যকা, উঁচু ঢাল, আগ্নেয়গিরির ফুঁসে ওঠা, পাথুরে মাটির কম্পনের খবর সে প্রতিনিয়ত পাঠাচ্ছে পৃথিবীতে। নতুন যানটিতে রয়েছে ২৩টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা। এছাড়া মাইক্রোফোন ও প্রচুর ছোটখাটো যন্ত্রপাতি। এই যান লাল গ্রহের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করে নিজেই প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে শেষে সেই রিপোর্ট পাঠাবে নাসাকে। জানাবে সেখানে প্রাণের কোনো খোঁজ আছে কিংবা ছিল কি না।
