শনাক্তের হার কমেছে, বেড়েছে মৃত্যু ও সুস্থতা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ২৩:০৮

দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের ১৪৫তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে সংক্রমণের হার কমেছে, বেড়েছে সুস্থতার হার। তবে একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৯৫ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বুধবার ১৪ হাজার ১২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ৯ জন। বুধবারের চেয়ে গতকাল ৩১৪ জন কম শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। দেশে এ পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬৬৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ জন। গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ জন মারা গেছেন। বুধবারের চেয়ে গতকাল ১৩ জন বেশি মারা গেছেন। বুধবার ৩৫ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মারা গেছেন ৩ হাজার ৮৩ জন। শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৬৭ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ২৫৩ জনের। বুধবারের চেয়ে গতকাল ১ হাজার ৫৮৬টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৭ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ১২৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ১৯০টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছরের এক জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের চার জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের ১১ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের পাঁচ জন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে এক জন ছিলেন। বিভাগভিত্তিক মৃতের সংখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, খুলনায় পাঁচ জন, সিলেটে পাঁচ জন, রাজশাহীতে তিন জন, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে দুই জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন।

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪১ জন এবং বাড়িতে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা মহানগরীতে সাধারণ শয্যায় ভর্তি আছেন ২ হাজার ৮৪ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছেন ১৯৩ জন। সারা দেশের অন্য হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি আছেন ১ হাজার ৫৩৭ জন এবং আইসিইউতে রোগী ভর্তি আছেন ১০৬ জন। সারা দেশে সব মিলিয়ে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ২৪০টি, রোগী ভর্তি আছেন ৩ হাজার ৯৭১ জন, শয্যা খালি আছে ১১ হাজার ২৬৯টি। সারা দেশে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ৫৪৯টি, রোগী ভর্তি আছেন ৩২৩ জন, শয্যা খালি আছে ২২৬টি। সারা দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৫২টি। আইসোলেশনে গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্ত হয়েছেন ৬৩৫ জন, এই সময় ছাড়া পেয়েছেন ৭৩৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৫৩ জন এবং এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২ হাজার ২৭২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৫৭ হাজার ৪২৫ জন।