শেষ পর্যন্ত ঈদ বোনাস পায়নি ২২ শতাংশ কারখানার শ্রমিক

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ২৩:৫৫

গত ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে গার্মেন্টসসহ সব খাতের শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও ২২ শতাংশ কারখানা মালিক তা মানেননি। অন্যদিকে জুলাইয়ের অর্ধেক বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও ৫৩ শতাংশ কারখানাই তা মানেনি। এ তালিকায় বিপুলসংখ্যক গার্মেন্টস কারখানাও রয়েছে। ফলে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়েই ঈদুল আজহা উদ্যাপন করতে হবে এসব শ্রমিককে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, তাদের আওতাভুক্ত এলাকার ৭ হাজার ৬০২টি কারখানার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের আগে সর্বশেষ কর্মদিবসে ১ হাজার ৭০৬টি বা ২২ শতাংশ কারখানা বোনাসের অর্থ পরিশোধ করেনি। আর পরিশোধ করেছে ৫ হাজার ৮৯৬টি। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক পোশাক কারখানাও রয়েছে। যদিও তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, তাদের  সদস্যভুক্ত ১ হাজার ৯৯৮টি কারখানার ৯৬ শতাংশই গতকাল বেলা ৩টা নাগাদ বোনাসের অর্থ পরিশোধ করেছে। আর জুলাইয়ের বেতনের সরকার-নির্দেশিত অংশের ৯৪ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্যের সঙ্গে এর বিস্তর ফারাক রয়েছে। এই সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত এক-চতুর্থাংশ ৫৯৮টি কারখানাই বোনাসের অর্থ পরিশোধ করেনি। আর জুলাইয়ের বেতন (অর্ধেক) পরিশোধ করেনি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর ১ হাজার ৩৭৯ কারখানা।

সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান কারখানা মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে বোনাস ও ৩০ জুলাইয়ের (গতকাল বৃহস্পতিবার) মধ্যে চলতি মাসের বেতনের অর্ধেক পরিশোধের জন্য কারখানার মালিকদের নির্দেশনা দেন। ঐ সভায় উপস্থিত বিজিএমইএর নেতারা তা মেনে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

অবশ্য শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্যের সঙ্গে বিজিএমইএর তথ্যের ফারাক নিয়ে সংগঠনটির গনসংযোগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম শুভ ইত্তেফাককে বলেন, তাদের তথ্য সঠিক। তিনি বলেন, ২৫ শতাংশ কারখানা বোনাস না পরিশোধ করলে অনেক শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটত, কিন্তু তা হয়নি।