ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এর মাধ্যমে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার বাতিল হয়। পার্লামেন্টে বিল পাসের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়। কাশ্মীরের জনগণ সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করলেও তারা এখন অন্য যে কোনো ভারতীয় নাগরিকের মতো সমান অধিকার ভোগ করতে শুরু করেছেন। কারণ মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূলে ছিল একক নাগরিকত্ব, শিশুদের জন্য শিক্ষার অধিকার ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।
ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে, জম্মু ও কাশ্মীরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, খেলাধুলা, পর্যটন ক্ষেত্রে জম্মু ও কাশ্মীর সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের সাক্ষী হয়েছে। রাজধানীর সঙ্গে দ্রুতগামী রেল যোগাযোগসহ বিশাল অবকাঠামোগত প্রকল্প জম্মু ও কাশ্মীরে বাস্তবায়িত হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ে উধমপুর-শ্রীনগর-বারমুল্লা রেল লিংক (ইউএসবিআরএল) প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে এবং এই প্রকল্পটি শেষ হলে তা জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য একটি বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাণবন্ত ফুলের চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে দেশের তিন চতুর্থাংশ আপেলের উত্পাদন জম্মু ও কাশ্মীরে হয়েছে। গত ১৪ জুলাই থেকে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার পর্যায়ক্রমে পর্যটন চালু করেছে। জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভারতের সব ব্যাংকের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ১৩ হাজার ৬০০ কোটি রুপি মূল্যের ১৬৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত এক বছরে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন যুবকদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও চাকরির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত্ ও ভূমি সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অগ্রগতি করেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে তরুণদের জন্য ১০ হাজার নতুন কাজের সুযোগ, ৫০টি নতুন ডিগ্রি কলেজে মোট ২৫ হাজার আসন, ১ হাজার ৪০০ অতিরিক্ত মেডিক্যাল/প্যারামেডিক্যাল আসনসহ সাতটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা; পাঁচটি নতুন নার্সিং কলেজ এবং একটি রাষ্ট্রীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এছাড়াও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকে ভারতের একটি বড় পর্যটনে এলাকা হিসেবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা নিয়ে রাস্তাঘাট ও সেতু সংস্কারসহ সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। লাদাখের লেহ বিমানবন্দরের সম্প্রসারণও কর্মসূচিতে রয়েছে এবং লাদাখকে কার্বন নিরপেক্ষ ইউনিয়ন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান আরো তীব্র করা হয়েছে এবং কেবল এ বছরই উপত্যকাজুড়ে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডারসহ ১৩০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গিবাদ এখন পিছু হটেছে। বাহিনীগুলোর সুচারু ও সহজ চলাফেরার লক্ষ্যে সীমান্ত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নতির দিকে দ্রুত নজর দেওয়া হচ্ছে।
কাশ্মীরে কারফিউ
৩৭০ ধারা বাতিলের বছরপূর্তিতে যেকোনো সংঘাত ঠেকাতে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনের কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কারফিউ জারির পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। শ্রীনগরের জেলা প্রশাসক বলেছেন, ‘কাশ্মীরে কিছু ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ ও পাকিস্তানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠী’ ৫ আগস্ট দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করার পরিকল্পনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় বিক্ষোভ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করার জন্য সহিংস বিক্ষোভ হতে পারে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
