‘সাধু’ ক্যাসিয়াসের নীরব বিদায়

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১:০৪

ইকার ক্যাসিয়াস

দল                        সময়কাল           ম্যাচ

স্পেন                     ১৬ বছর            ১৬৭

রিয়াল মাদ্রিদ           ১৬ বছর            ৭২৫

 দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনাল।

৬২তম মিনিটের খেলা চলছে। যে দল গোল করবে, ট্রফি তাদেরই। এমন সময় স্পেনের গোলরক্ষককে একা পেয়ে গেলেন ডাচ তারকা আরিয়েন রোবেন। রোবেনের গতি লক্ষ্য করে এগিয়ে এসে বামদিকে ঝাঁপ দিলেন গোলরক্ষক। কিন্তু রোবেন বল পাঠালেন ডানদিকে। আর এই সময়ই বিশ্ব দেখল এক ম্যাজিক। প্রায় শুয়ে থাকা অবস্থায় পা বাড়িয়ে দিলেন ঐ গোলরক্ষক ; বল পায়ে লেগে চলে গেলো বাইরে। আর এই সেভের ওপর ভর করেই স্পেন তার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ট্রফি জিতল—বিশ্বকাপ। তিনি হয়ে উঠলেন এক ফুটবল তারকা থেকে এক জন জনমানুষের নায়ক। হ্যাঁ, নায়ক ইকার ক্যাসিয়াস—সেইন্ট ইকার ক্যাসিয়াস ফার্নান্দেজ।

মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় অনেকটা নীরবেই মাঠের ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদের সফলতম অধিনায়ক এবং সারা বিশ্বের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ফুটবল ব্যক্তিত্ব ইকার ক্যাসিয়াস। স্প্যানিশরা আদর করে বলে—সাধু ক্যাসিয়াস।

১৯৮১ সালে মাদ্রিদেই জন্ম নেওয়া ক্যাসিয়াস ছিলেন মাদ্রিদেরই এক গর্বিত সন্তান। কিন্তু নিজেকে কেবল মাদ্রিদের গণ্ডিতে আটকে রাখেননি। হয়ে উঠেছিলেন একত্রিত স্পেনের প্রতীক।

১৯৯৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ‘সি’ দলের হয়ে খেলা শুরু করেন অ্যাকাডেমির এই ছাত্র। পরের বছর মূল দলের হয়ে অভিষেক। মাদ্রিদের হয়ে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ৭২৫টি ম্যাচ খেলেছেন। এই সময়ে দলটিকে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও পাঁচটি লা লিগাসহ আরো অনেক শিরোপা জিতিয়েছেন। তবে ক্যাসিয়াস বৈশ্বিক তারকা হয়ে উঠেছেন স্পেনের নেতা হিসেবে। স্পেনের হয়ে ২০০০ সাল থেকে ১৬ বছরে ১৬৭টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কীর্তি নিশ্চয়ই বিশ্বকাপ জয়। ২০১০ সালে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে বড় অবদান রাখেন ক্যাসিয়াস। বিশ্বকাপ জয়ের পথে রেকর্ড পাঁচটা ম্যাচে গোল হজম করেননি; প্রতিটা ম্যাচই ছিল নকআউট পর্বে। ফাইনালে এক রোবেনের দুটি প্রায় নিশ্চিত গোল থেকে বাঁচিয়েছিলেন দলকে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন তিনি। দেশের হয়ে ২০০৮ ও ২০১২ সালে জেতেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ।

সুদর্শন এই মানুষটি ছিলেন যোদ্ধা প্রকৃতির। একই সঙ্গে ছিলেন অসাধারণ এক নেতা। তিনি যখন স্পেনের অধিনায়ক, তখন স্পেন দলে ৭ থেকে ৮ জন বার্সেলোনার খেলোয়াড়; যার বড় অংশ আবার মাদ্রিদবিদ্বেষী কাতালান। এদেরকে  স্পেনের পতাকাতলে একত্রিত রেখেছিলেন তিনি।

ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ২০১৫ সালে যোগ দেন পর্তুগালের ক্লাব পোর্তোতে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে হার্ট অ্যাটাকের পর থেকে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি এই স্প্যানিশ গোলকিপার। পোর্তোর হয়ে ১৫৬ ম্যাচ খেলেন তিনি। সেখানে জেতেন দুটি প্রিমেইরা লিগা ও একটি পর্তুগিজ কাপ।

মাঝে ঘোষণা দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবেন। করোনার কারণে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তবে আজন্মের ক্লাবটিতেই যুক্ত হতে যাচ্ছেন। নতুন ভূমিকাতে আবার ফিরবেন ফুটবলে।

আবার ফুটবল দেখবে সাধু ক্যাসিয়াসের নতুন কোনো ভেলকি।