ছুটি শেষের অফিস-কর্মস্থল

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১:২৬

এবার ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি ছিল তিন দিন। অন্যবার কোরবানির ঈদে সরকারি ছুটি অন্তত চার দিন থাকিতে দেখা গিয়াছে। তদুপরি পূর্বে ও পরবর্তী সময়ে শুক্র ও শনিবার পড়িলে সেই সরকারি ছুটি আরো বাড়িয়া যায়। এই বত্সর এমন হওয়ার অবকাশ ছিল না। কেননা ঈদের ছুটি পড়িয়াছে শুক্রবার, শনিবার ও রবিবারে। অর্থাত্ দুই দিন স্বাভাবিক ছুটির মধ্যে পড়িয়া গিয়াছে ঈদের ছুটি। ইহা ছাড়া গত ঈদুল ফিতরের ন্যায় এবারও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা ছিল ঈদুল আজহার ছুটিকালীন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলেই থাকিতে হইবে। ফলে যাহারা শহর-নগরে থাকেন, তাহাদের নাড়ির টানে ঘর বা গ্রামমুখী হইবার কথা ছিল না; কিন্তু অনেকে এইবার সেই নির্দেশনা লঙ্ঘন করিয়াছেন। এই জন্য ঈদ-উত্তর সরকারি অফিসগুলিতে পূর্বের মতোই পরিস্থিতি লক্ষ করা যাইতেছে। ছুটি সংক্ষিপ্ত হইলেও অনেকে গ্রামে-গঞ্জে ছুটির আমেজেই রহিয়াছেন। নির্ধারিত তিন দিনের সাধারণ ছুটি শেষে গত সোমবার সকল অফিস-আদালত খুলিলেও ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে রাজধানীর মতিঝিল ও ইহার আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ে নাই। সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। স্বাভাবিক কারণে রাস্তায় যানবাহনের চলাচলও ছিল কম। পরের দিন মঙ্গলবারও অফিসপাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়া আসে নাই। ব্যাংক-বিমায় সেইভাবে লেনদেন হয় নাই। এমনকি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরাও ঈদের ছুটি শেষ করিয়া প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে আসেন নাই। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল কোনো কোনো বেসরকারি অফিস। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল মোটামুটি সন্তোষজনক।

প্রত্যেক বত্সরই বড় বড় উত্সব শেষে কর্মস্থলে ফিরিয়া আসিতে আমরা গড়িমসি করি। নানা ছুতায় ও অজুহাতে ছুটি বাড়াইয়া লইয়া থাকি এবং অফিস ফাঁকি দিতেও কার্পণ্য বোধ করি না। একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এই প্রবণতা অধিক হারে দেখা যায়, যাহা মোটেও কাম্য নহে। এই করোনাকালে সারা বিশ্ব একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করিতেছে। আমরা জানি না ইহার শেষ কোথায়। এই অবস্থায় টিকিয়া থাকিতে হইলে আমাদের কাজে ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করিতে হইবে। কয়েক মাস ধরিয়া করোনা-সংকট চলিতে থাকায় বিশ্ববাসীর এই উপলব্ধি হইয়াছে যে, আমাদের আপাতত করোনার মধ্যেই বসবাস করিতে হইবে। নিজ জীবন ও পরিবার-পরিজন লইয়া বাঁচিয়া থাকিবার নিরন্তর সংগ্রাম করিয়া যাইতে হইবে। এমন জীবনযাপনেই আমাদের অভ্যস্ত হইতে হইবে। সর্বত্র মানিয়া চলিতে হইবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। এই জন্য ছুটি শেষে যথাসময়ে অফিসে যোগদান না করাটা দুঃখজনক। জাতীয়ভাবে তৈরি হওয়া এই আলস্যবোধ হইতে আমাদের বাহির হইয়া আসিতে হইবে। এইভাবে আমরা নিজেদেরই ক্ষতিসাধন করিতেছি।

অবশ্য করোনা পরিস্থিতির কারণেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বয়স্ক ও সন্তানসম্ভবা নারীকে অফিসে আসিতে নিষেধ করিয়াছে। অনেকে বাসায় থাকিয়া ইমেইল ও ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিস করিতেছেন। এই জন্য উপস্থিতি কিছুটা কম হওয়া অস্বাভাবিক নহে; কিন্তু তাহার পরও প্রশ্ন থাকিয়া যায়। অফিসপাড়া এতটা ফাঁকা থাকিবার দৃশ্য মানিয়া লওয়া যায় না। যাহারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাহাদেরই পূর্বে এই ব্যাপারে দায়িত্বশীল হইতে হইবে। তাহারা নিয়মনীতি পালনে অনড় থাকিলে অধস্তনরাও তাহাদের অনুসরণ করিতে বাধ্য হইবেন।