ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিলের ভোগান্তি কবে দূর হবে!

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১:২৮

ইমরান ইমন

মহামারি করোনা ভাইরাসের থাবায় একদিকে যেমন বিপর্যস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা, অন্যদিকে আবার এর ওপর সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল। মোটাদাগে যাকে বলে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

বিদ্যুত্ বিভাগ ইউনিটের চেয়ে অতিরিক্ত বিল করে এটা কমবেশি গ্রাহকের নিত্য অভিযোগ বিষয়বস্তু ছিল। করোনাকালীন এ অভিযোগের পাল্লা আরো ভারী হয়ে উঠেছে। মূলত করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লাইন ধরে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধকে নিরুত্সাহিত করে বিদ্যুত্ বিভাগ ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিলে বিলম্ব মাশুল মওকুফ করলেও ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ সব বিল পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় জরিমানা, সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে আশঙ্কায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

দেশের এই মহাদুর্যোগে বিদ্যুত্ বিভাগের এমন? অমানবিক, নিষ্ঠুর এবং লোভাতুর আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অনেক বাসাবাড়িতে অকল্পনীয়, অস্বাভাবিক বাড়তি বিদ্যুত্ বিল এসেছে।

এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে  তাদের মিটার রিডার বাড়ি বাড়ি যেতে পারেননি, তাই গড় হিসাব করে বিল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে প্রতি মাসের বিলই বেড়ে যাবে কেন? আর যদি তাদের মিটার রিডার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি মাসের বিলের মিটার চেক করতে না পারেন, সে দায় কি গ্রাহকের?  অনুমান করে কি বিদ্যুত্ বিল প্রস্তুত করা যায়!!

করোনা মহামারির মধ্যে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিল চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল সমস্যার সমাধান হবে, জুলাই থেকে রিডিং দেখে বিদ্যুত্ বিল করা হবে।’ তাছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিল ক্রমান্বয়ে সমন্বয় করা হবে। কিন্তু দুর্ভোগের বিষয় হলো, বিতরণ কোম্পানিগুলো এখনো অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিল করার প্রবণতা থেকে বের হতে পারেনি। এখনো বন্ধ হয়নি তাদের ‘পুকুরচুরি’। জুলাই মাসেও অনেক গ্রাহকের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিল এসেছে। জুলাই মাসে আমার নিজের বাসার বিলও স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি এসেছে।

সরকারের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে বিতরণ কোম্পানিগুলো কাজ করে থাকে এবং একটা অর্থবছর ঘিরে তাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকে। অর্থবছরের শেষ দিকে এসে কোম্পানিগুলো তাদের ঘাটতি মেটাতে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিল চাপিয়ে দেয়। হয়রানির আশঙ্কা থেকে অনেক গ্রাহক এ নিয়ে আপত্তি করতে সাহস করেন না। ফলে ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল করে উক্ত কোম্পানিগুলো জনসাধারণের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেটা খুবই অমানবিক ও বেআইনি। করোনা সংকটকালে এ প্রতারণা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।

স্বাভাবিক সময়ে অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিলের সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাহকরা অফিসে ছোটাছুটি করতে পারেন। কিন্তু এই করোনা মহামারি সময়টাতে যা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। এমনিতেই করোনার তাণ্ডবে মানুষের আয়-রোজগার তথা জীবন চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া মোটাদাগে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। জাতির এই দুঃসময়ে দেশের জনসাধারণের সঙ্গে বিদ্যুত্ বিভাগের এমন প্রতারণা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুত্ বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনারা বিষয়টি অতি দ্রুত সমাধান করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসন করুন।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়