শিশুরা বাইরে গেলে, বিদ্যালয়ে গেলে তাদের করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি। তাই সরকার সে ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে সর্বাধিক। চারমাসের বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ। শিশুদের জন্য সরকার সংসদ টেলিভিশনে চালু করেছে নিয়মিত ক্লাস। বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে এ বিষয়ে হতাশ হওয়ারও কিছু কারণ আছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে গরিব পরিবার রয়েছে ৮০ শতাংশ। তাদের কারো টেলিভিশন আছে, কারো নেই, কারো ডিশ নেই, কারো ইন্টারনেট আনার ক্ষমতা নেই বা অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই। কিছু পরিবার আছে যারা বেশ সচেতন, তাদের বাচ্চাগুলো ছাড়া সত্যিই পড়ালেখায় একটা ধস নেমেছে। তাছাড়া শিশুরা বাইরে যেতে পারছে না, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারছে না। তাই তাদের মন এবং শরীর দুটোতেই বিকাশ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে পড়ালেখার পাশাপাশি ঘরে খেলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। বিনোদনমূলক ছবি, নাটক দেখতে দিতে হবে। পাশাপাশি সৃজনশীলতার জন্য আঁকাআঁকি, গল্পলেখা, গল্পবলা, জিনিস তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিশুদের সঙ্গে মা-বাবাদের মিশতে হবে নিবিড়ভাবে। বকাবকি না করে বুঝিয়ে দিতে হবে ভালো-মন্দ। তাছাড়া তাদের মতামতেরও প্রাধান্য দিতে হবে। শিশুদের সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে হবে। শিশুদের ভালোবাসা দিন—দেশের ভবিষ্যত্ সুনাগরিক হিসেবে তাদের গড়ে তোলার দায়িত্ব আপনার আমার সবার।
লাকি রাণী বিশ্বাস
প্রধানশিক্ষক,
গরিবউল্লাহ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
রাউজান, চট্টগ্রাম
