পুলিশের ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) হবেন। এএসপি (সহকারী পুলিশ সুপার) পদে পদোন্নতিতে দীর্ঘদিন ধরে জট থাকায় বিকল্প হিসেবে ডিএসপি পদ তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই পুলিশের পলিসি গ্রুপের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশ পলিসি গ্রুপের বৈঠকে অংশ নেন সব অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি। আলোচনা শেষে ইন্সপেক্টরদের পদোন্নতির জন্য ‘এএসপি’ পদের সমান্তরাল ডিএসপি (নন-ক্যাডার) পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের ও অ্যান্ড এম (অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ও সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাব ও সুপারিশমালায় বলা হয়েছে, দেশে ইন্সপেক্টরের পদসংখ্যা ৬ হাজার ৮৬৯টি এবং সহকারী পুলিশ সুপার পদের সংখ্যা ১ হাজার ৩৮০টি। সহকারী পুলিশ সুপার পদের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাত্ ৪৪১টি পদ ইন্সপেক্টরদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এই পদ মোট ইন্সপেক্টরদের মাত্র সাড়ে ৬ ভাগ। ফলে ৯৩ ভাগ ইন্সপেক্টর পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে চলে যান। এ কারণে ইন্সপেক্টরদের মধ্যে ডিউটি করার সময় এক ধরনের হতাশা কাজ করে। ২৫/৩০ বছর এক পদে চাকরি করার কারণে তারা কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলেন। পুলিশ বিভাগে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে কাজের গতিশীলতা আনতে এবং বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইন্সপেক্টরদের জ্যেষ্ঠতা ও সন্তোষজনক কর্মকাল অতিক্রান্তের ভিত্তিতে ‘ডিএসপি’ পদবিতে এএসপির দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে। ডিএসপি অফিসাররা র্যাংক ব্যাজ হিসেবে দুটি পিপস পরিধান করবেন। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত এএসপি অফিসাররা প্রশিক্ষণকালে দুটি পিপস এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকালে তিনটি পিপস পরিধান করেন। এতে ডিএসপি ও এএসপি পদে র্যাংক ব্যাজ নিয়ে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হবে না।’
পাঠানো প্রস্তাব ও সুপারিশমালায় বেশ কিছু শর্তাবলি দেওয়া হয়েছে। ডিএসপি পদবিতে সাময়িকভাবে এএসপি পদের দায়িত্ব পালন করলেও এএসপি পদে ক্যাডারভুক্ত হওয়ার সময় কোনো ধরনের জ্যেষ্ঠতা পাবেন না। ডিএসপি পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টরদের বেতন গ্রেডের কোনো পরিবর্তন হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না। প্রয়োজনীয় সংখ্যক এএসপি পাওয়া গেলে ডিএসপি অফিসারদের তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সারা দেশের সাব-ইন্সপেক্টর ও ইন্সপেক্টরদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এক জন ৯২ সালের এসআই ক্যাডেট বলেন, ‘চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ৯৯ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করি। কিন্তু পিএএলভুক্ত হওয়ার পর পদোন্নতি পাই ২০০৭ সালে। ততক্ষণে চাকরির ১৫ বছর চলে গেছে। ২০২০ সালে এসে এখনো ইন্সপেক্টর পদেই রয়ে গেলাম। এএসপি পদে পদোন্নতি হলো না। এএসপি, এডিশনাল এসপি ও এসপি পদে পদোন্নতি স্বপ্নই থেকে গেলো। আর দুই/তিন বছর পর আমরা অবসরে চলে যাচ্ছি।’
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাযহারুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ব্যাপারে শনিবার একটি মিটিং ডেকেছি। মিটিংয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত আইজিপির কাছে উপস্থাপন করা হবে।’
আনিসুর রহমান নামে একজন ইন্সপেক্টর বলেন, বলা হচ্ছে এটি পদোন্নতি নয়, সাময়িক দায়িত্ব পালন। গ্রেড পরিবর্তন হবে না, আর্থিক কোনো প্রণোদনা নেই। শর্তানুযায়ী শুধু এই অস্থায়ী ডিএসপি পদবিপ্রাপ্তির জন্য ইন্সপেক্টররা এএসপি পদোন্নতির যে অধিকার পেত সেটিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মতোই অবমাননাকর বা অসম্মানকর হবে।
সুনীল ঘোষ বলেন, এটি কোনো অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি, এতে করে আরো হতাশা তৈরি হবে। সিনিয়র-জুনিয়র বৈষম্য আরো বাড়বে বলে মনে হয়। ২০১৩ সালে পেট্রোল বোমার হামলা ঠেকিয়েছে এই কনস্টেবল, এসআই ও ইন্সপেক্টররা। ৪২ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ আমাদেরকেই অবমাননা করা হচ্ছে।
