চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে বিশ্ব জুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে করোনায় মৃত্যু ৭ লাখ ছাড়িয়েছে বুধবার। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত ও মেক্সিকোতে করোনায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। এসব দেশে মাঝে কিছুটা সংক্রমণ কমলেও ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে রয়টার্স বলছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এই সময়ে মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ জন করে মারা গেছেন। অর্থাত্ বিশ্বে প্রতি ঘণ্টায় ২৪৭ জন অথবা প্রতি ১৫ সেকেন্ডে এক জন করে করোনার বলি হয়েছেন। অন্যদিকে, মোট সংক্রমণ প্রায় ২ কোটি ছুঁইছুঁই করছে। দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর কয়েকটি দেশ ফের কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া। চলাচলে শিথিলতা আনতেই শুরু হচ্ছে নতুন করে সংক্রমণ।
বিশ্ব জুড়ে করোনায় সংক্রমণ এবং মৃত্যু বাড়লেও এই ভাইরাসের নতুন কেন্দ্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকা। করোনা ভাইরাসের বিস্তারের লাগাম টানতে কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ। দেশটিতে করোনায় প্রাণ গেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের। বিশ্ব জুড়ে করোনায় মৃত্যুতে ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেছে লাতিন আমেরিকা। করোনায় এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে; যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩০ শতাংশ। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাজিল। দেশটিতে ৯৫ হাজার ৮১৯ লোকের প্রাণ কেড়েছে এই ভাইরাস। ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লাখ ৮ হাজার ছাড়িয়েছে।
৪৮ হাজার ৮৬৯ জনের প্রাণহানি নিয়ে এই অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড মেক্সিকোর। এছাড়াও লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়া, পেরু, আর্জেন্টিনা ও বলিভিয়ায় করোনা মহামারির বিস্তার দ্রুতগতিতে ঘটছে। করোনায় মৃত্যুতে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে আছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৬ হাজার ২৯৫ জন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে এই ভাইরাসের উত্পত্তি হলেও দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ হাজার ২০৬ জন। তাদের মধ্যে ৮১ হাজার ২০০ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৭৬ জন।
চীনের প্রতিবেশী ভারতে করোনার ব্যাপক প্রকোপ শুরু হয়েছে। দেশটিতে প্রতিদিন ৫০ হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হচ্ছে এই সংক্রামক রোগে।
কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বের যেসব দেশ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল, এখন সেসব দেশেও শনাক্ত রোগীর পরিমাণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, বলিভিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া, বুলগেরিয়া, বেলজিয়াম, উজবেকিস্তান ও ইসরায়েলে দৈনিক শনাক্তে নিত্যনতুন রেকর্ড হচ্ছে। তাই গবেষকরা বলছেন, একটা বিষয় পরিষ্কার। আর তা হচ্ছে এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হতে এখনো অনেক সময় বাকি।
