ওসি প্রদীপসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে সিনহার বোনের হত্যা মামলা দায়ের

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ২২:৫৪

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের টেকনাফের শামলাপুর অংশে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রধান অভিযুক্ত লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ টেকনাফে ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

৩০২/২০১ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ করা ফৌজদারি দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহা। মামলা নথিভুক্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে নথিসহ আদালতকে অবহিত করার    কথাও বলা হয়েছে আদেশে। পাশাপাশি মামলাটি তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কক্সবাজারস্থ র্যাব-১৫-এর অধিনায়ককে।

বিচারকের আদেশ পাবার পর আদালত চত্বরেই সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদিনীর আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা ও মামলার বাদী নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

এর আগে একইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছে একটি মাইক্রোযোগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া। সেখান থেকে  অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফার চেম্বারে অবস্থান করে মামলার প্রস্তুতি নেন তিনি। তার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫১তম বিএমএ লং কোর্সে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ শেষে ২০০৪ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন  সিনহা রাশেদ খান। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সে (এসএসএফ) থেকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপালন করেন সিনহা। ২০১৩ সালে সেনাবাহিনীর হয়ে শান্তি মিশনে আইভরি কোস্টে যান তিনি। সেখানে পেশাগত দায়িত্বে সফলতা হওয়ায় মেজর পদে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে ফিরে ২০১৮ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেন।

এ লক্ষ্যে জুলাই মাসের শুরুতে কক্সবাজারের হিমছড়িতে এসে নীলিমা রিসোর্টে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময়ে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন স্পটে শুটিং করে তার টিম। ৩১ জুলাই বিকালে বাহারছড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা ও মারিশবনিয়ার একটি পাহাড়ে উঠে পছন্দসই শট নেন। পরে তারা লাইটের আলো জ্বালিয়ে কাজ করেন। সন্ধ্যা শেষে রাতের শুরুতে গন্তব্যস্থলে ফেরার জন্য রওনা দেন তারা। তাদের বহন করা ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-০৯৭৯ গাড়িটি প্রথমে টেকনাফ সড়কের ২ বিজিবির চেকপোস্ট পার হন। ৯টা ২৫ মিনিটে বাহারছড়া পুলিশের তদন্ত কেন্দ্রের তল্লাশি চৌকিতে পৌঁছলেই গাড়ি থেকে নামতে বলা হয় তাকে। তিনি হাত উচা করে নেমে নিজের পরিচয় দিলে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে ইন্সপেক্টর লিয়াকত বলেন, ‘তোর মতো অনেক মেজর দেখছি, তোকে খেলা দেখাচ্ছি’। এটা বলে ওসি প্রদীপকে ফোন দেন তিনি। এক পর্যায়ে বলেন, ‘ঠিক আছে স্যার, শালারে খতম করে দিতাছি’ বলে গুলি করেন ইন্সপেক্টর লিয়াকত। গুলি খেয়ে মাটিতে লুটে পড়া মেজর সিনহা প্রাণ বাঁচাতে উঠার চেষ্টা করলে অন্য আসামিরা (সঙ্গে থাকা এসআই, এএসআই, কনস্টেবল) তাকে চেপে ধরেন। পরে ঘটনাস্থলে এসে ওসি প্রদীপ গুলিবিদ্ধ সিনহাকে মাথা ও মুখে লাথি মেরে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে মুখ বিকৃত করার চেষ্টাও করেন হত্যাকারীরা।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন (শনিবার) বিকালে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকতসহ পুলিশের ২১ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়