নেত্রকোনায় হাওরে বেড়াতে গিয়ে ট্রলারডুবি

এক পরিবারের সাত জনসহ নিহত ১৭

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ২২:৫৪

নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের রাজালীকান্দা হাওরে ট্রলারডুবে গতকাল বুধবার দুপুরে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একই পরিবারের সাত জন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামের মাকসুদা সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র এবং শিক্ষক। এছাড়াও নেত্রকোনার তেলিগাতি গ্রামের কয়েক জন রয়েছেন নিহতদের মধ্যে।

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানান, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের মধ্যে ময়মনসিংহের একই পরিবারের সাত জন রয়েছেন। তারা হলেন : হাফেজ মাহফুজুর রহমান, ছেলে আশিফ, মাহমুদ মিয়া, ভাতিজি জুলফা, লুবনা, ভাতিজা জুবায়ের ও মোজাহিদ। নিহত অন্যরা হচ্ছেন : সাইফুল ইসলাম রতন, জাহিদ, শামীম হাসান, শফিকুল, শহিদুল, ইসা মিয়া, আজহারুল, সামাহান, রেজাউল করিম ও হামিদুল। তাদেরকে স্ব স্ব  পরিবারের লোকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামের মাকসুদা সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার ৪৮ জন ছাত্র ও শিক্ষক গতকাল সকালে মদন উপজেলার মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত উচিতপুরে হাওরে আনন্দ ভ্রমণে আসে। মাদ্রসার ছাত্র ও শিক্ষকরা একটি ট্রলারে করে উচিতপুর ঘাট থেকে               গোবিন্দশ্রীর দিকে যাচ্ছিল। প্রবল বাতাসের কারণে হাওরে বিশাল বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঢেউয়ে ট্রলারটি দুলতে দুলতে রাজালীকান্দা নামক স্থানে হঠাত্ কাত হয়ে ডুবে যায়। আশপাশে যারা মাছ ধরছিল তারা নৌকা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। ট্রলারের বেশির ভাগ যাত্রী সাঁতরিয়ে আশপাশের নৌকায় উঠতে সক্ষম হলেও ১৭ জন হাওরের পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে  নেত্রকোনা থেকে দমকল বাহিনী ও পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দুই কন্যাশিশুসহ ১৭ জন মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধার  করে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।  ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ তালুকদার। তিনি জানান, রাজালীকান্দা হাওরে ট্রলারডুবির ঘটনায় দুই কন্যাশিশুসহ ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো এক জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান, নিহতদের লাশ বাড়িতে নেওয়া ও দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের পরিবারকে তাত্ক্ষণিক ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

হবিগঞ্জে তিন জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বানিয়াচঙ্গের রহমতপুর পাঁচকেরির হাওরে নৌকাডুবিতে পিতা-পুত্রসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ছোট একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারা শিবপাশা থেকে রহমতপুর যাচ্ছিল। বিকালে রহমতপুর গ্রামের কাছে পাঁচকেরির হাওরে পৌঁছালে হঠাত্ নৌকাটি ডুবে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাত্ক্ষণিক দুই-তিন জনকে উদ্ধার করলেও তিন জন নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোলন আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ হন দোলন আক্তারের ভাই আলী নূর ও ভাতিজা খোকন। বুধবার সকালে স্থানীয়রা হাওরে বাবা-ছেলের মরদেহ পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়।