শেয়ারবাজার টানা উত্থানের ধারায় রয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর এমন ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আর দেখা যায়নি। এরই মধ্যে গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। টানা উত্থান ও লেনদেনে পরিমাণ বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হচ্ছেন। শেয়ারবাজারের মূল সমস্যা যে আস্থার সংকট, তা দূর হয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হচ্ছে। তবে সেই আশা আবার ভঙ্গ হয়ে বিনিয়োগকারীরা আবারও ক্ষতিতে পড়েন কি না, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।
শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, শেয়ারবাজারে ধারাবাহিকভাবে উত্থান হলেও খুব বেশি উত্থান হয়নি। তবে অবশ্যই এটি আশার দিক। এক্ষেত্রে খুব বেশি আশাবাদী হওয়া ঠিক হবে না। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা দূর করতে এবং ভালো শেয়ার বাজারে আনতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) খুব ভালো ভূমিকা রাখছে। এই ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। তবে বাজারে এখনো কিছু খারাপ বিষয় রয়েছে, সেগুলোর দিকে কমিশনকে নজর দিতে হবে। টানা ৮ কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। গতকালও আগের দিনের ধারাবাহিকতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্য সূচকের উত্থান ছিল। মহামারি করোনা শুরুর পর শেয়ারবাজারে এমন টানা উত্থান আর দেখা যায়নি।
গতকাল বিনিয়োগকারীরা বলেন, একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, অন্যদিকে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর মধ্যে টানা ৯ কার্যদিবসের উত্থানে সূচকটি ২৩০ পয়েন্ট বাড়ল।
এদিকে গত মার্চে যখন করোনা দৃশ্যমান হলো, তখন শেয়ারবাজারের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি রাতারাতি অনেক কমে যায়। বিশেষ করে যেসব বিনিয়োগকারী মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল, তাদের পুঁজির পুরোটাই অদৃশ্য হয়ে যায়। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বিএসইসির নির্দেশনা মেনে ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করতে ঋণ দেয়। তবে দেশের শেয়ারবাজারে বিদ্যমান নেতিবাচক অবস্থার কারণে এই ভালো শেয়ারগুলোর দরপতন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এমন পরিস্থিতির পরও আশার বিষয় হচ্ছে, নতুন কমিশনের কার্যক্রমে আর অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মে অচিরেই এই অবস্থার অনেকটা উত্তরণ ঘটবে। কিন্তু শেয়ারগুলো ফোর্সড সেল হয়ে গেলে তখন তো ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারীরা সবটুকুই হারাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
