সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকতসহ ৯ পুলিশ সদস্য অভিযুক্ত হয়ে সাত জন কারাগারে গেলেও ঘটনাস্থলে না গিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেনের দায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন ব্যক্তি পুলিশের কথা মতো হাত ওপরে তুলে আত্মসমর্পণ করে গাড়ি থেকে নামার পরও গুলিতে মারা যাবার ঘটনাকে বিনা তদন্তে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান এসপি। তার দায়দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন সচেতন মহল।
সূত্র মতে, ৩১ আগস্ট (শুক্রবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়ে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে এসপি মাসুদ হোসেন বলেছিলেন, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলাও করে। মামলায় ৫০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও দুই বোতল মদ উদ্ধারের কথাও লেখা হয়েছে।
এমন একটি ঘটনায় ঘটনাস্থলে না গিয়ে আসল বিষয়টি বের করার পরিবর্তে নিজের অধিনস্থ সদস্যদের রক্ষায় পূর্বের শতাধিক বন্দুকযুদ্ধের মতো সিনহা হত্যাকাণ্ডকে বন্দুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান এসপি। এটি এসপির মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার দায়িত্বশীল আচরণে পড়ে না।
