কিছুদিন পূর্বে ইউএনডিপি জানাইয়াছে, করোনার কারণে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ কাজ হারাইতে যাইতেছে। আইএলও আরো এক ধাপ আগাইয়া বলিয়াছে, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৭০ শতাংশ কর্মীই কর্মহীন হইবার ঝুঁকির মধ্যে রহিয়াছেন। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের পরিস্থিতিও মোটেই সুখকর নহে। যদিও নূতন করিয়া কতসংখ্যক মানুষ বেকার হইবেন তাহার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনই দেওয়া যাইবে না। তবে এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ রহিয়াছে উচ্চ ঝুঁকিতে। আশঙ্কা করা হইতেছে, দেশের অন্তত ২ কোটি মানুষ নূতন করিয়া দরিদ্র হইবেন। ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ মানুষ বেকার হইয়া পড়িয়াছেন। জীবন-জীবিকার যুদ্ধে পরাজিত হইয়া লক্ষাধিক পরিবার ঢাকা ছাড়িতে বাধ্য হইয়াছে। কোভিড মহামারির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কর্মবাজার সংকুচিত হইয়া আসিতেছে। যদিও কোরবানি ঈদের কারণে গত মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসিয়াছে, তবে ইহাতে উল্লসিত হইবার কিছু নাই বলিয়া মনে করেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা। কারণ, কোভিডের কারণে ইতিমধ্যে অন্তত ১০ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি ফিরিয়া আসিয়াছেন। ইহাদের অধিকাংশেরই বিদেশে ফিরিয়া যাইবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সকল কিছু মিলাইয়া ইতিহাসের সবচাইতে বড় সংকটে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়িয়াছে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলি।
এই অবস্থায় দেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাত বিশেষ ভূমিকা রাখিতে পারে। দেশের সর্বত্র শহর ও গ্রামগঞ্জে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া রহিয়াছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কারখানা। করোনার কারণে এই খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হইয়াছে। উক্ত খাতে উত্পাদিত পণ্যসামগ্রীর দেশীয় বিশাল বাজারসহ বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা থাকিলেও এখন তাহা হ্রাস পাইয়াছে। মার্চের শেষ হইতে পরবর্তী তিন মাস করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অধিকাংশই বন্ধ ছিল। ফলে এই শিল্পে জড়িত শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা, শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকের পাশাপাশি ইহার সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়িয়াছেন। এই খাত কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তাহা এই পরিসংখ্যান হইতে স্পষ্ট যে, দেশের শিল্প খাতে নিয়োজিত মোট জনশক্তির প্রায় ৮৭ শতাংশ ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের। সুতরাং দেশের অর্থনীতিতে উক্ত খাতের গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়। বিশ্বের উন্নত দেশসমূহের মতো আমাদের দেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতকে শিল্পায়নের মূল চালিকা হিসাবে বিকশিত করিবার কথা বলা হইয়াছে জাতীয় শিল্পনীতিতে।
স্বস্তির কথা হইল, চলতি অর্থবত্সরের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হইয়াছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য গত ৩০ জুন ১ হাজার কোটি টাকা ছাড় করিয়াছে অর্থ বিভাগ। এই অর্থ বিদেশ হইতে ফিরিয়া আসা যুবক ও অন্য বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ঋণ হিসাবে দেওয়া হইবে। নিঃসন্দেহে সরকারের এই উদ্যোগ বেকারত্ব ঘুচাইতে কিছুটা কার্যকর ভূমিকা রাখিবে। ইহার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও উদ্যোগী হইতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, ‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।’
