সাধন সরকার
এ ধরণীতে নিঃস্বার্থ, প্রকৃত ও উপকারী বন্ধু হলো বৃক্ষ। বৃক্ষের ছায়াতলেই গড়ে উঠেছিল মানবসভ্যতা। বৃক্ষ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রোধ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাসহ নৈসর্গিক শোভাবর্ধনে বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ নগরায়ণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন আর যন্ত্র-প্রযুক্তির মোহে অযাচিতভাবে বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে বন। ফলে দেখা দিচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বাড়ছে উষ্ণায়ন আর মানবসভ্যতা পড়ছে হুমকির মুখে। পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের মতো সামাজিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মাঝে। বিশেষ দিনগুলোকে উপলক্ষ্য করে গাছ লাগানো যেতে পারে। সেটা হতে পারে জন্মদিন, সন্তানের প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন, বিবাহবার্ষিক বা অন্য কোনো বিশেষ কারণ।
জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে চিরচেনা গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত ঋতুর বিশৃঙ্খল আচরণ প্রকৃতিকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশকে উপেক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়! বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জমি অধিগ্রহণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়নে বনভূমি কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। সরকারি হিসেবে বনভূমির পরিমাণ ১৭ শতাংশেরও কম! তবে জনসচেতনতা, কমিউনিটি উদ্যোগ এবং সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির কারণে লোকালয়ে গাছের সংখ্যা বাড়ছে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ ভালো থাকার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের টিকে থাকা। আমাদের দেশের প্রকৃতি বৈচিত্র্যময় এবং অনেক সম্পদে ভরপুর। নদ-নদী, খাল-বিল, পাহাড়-বন, হাওর-বাঁওড়, মাটি আর বায়ু মিলিয়ে এক অপূর্ব প্রকৃতির সমারোহ। পরিবেশের অবক্ষয় রোধে ও দারিদ্র্যবিমোচনে বৃক্ষরোপণ ব্যাপক সহায়ক। শুদ্ধতা অর্জনের জন্যও বৃক্ষমুখী হওয়ার বিকল্প নেই। দেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম শিশু-কিশোরদের বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলা গেলে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন দেশ ভরে উঠবে সবুজে সবুজে। শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উত্সাহিত করতে হবে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। গাছ লাগানোর এখনই উপযুক্ত সময়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, রেললাইন ও সড়কের পাশে, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তার দুই পাশে, পতিত ও খাস জমিতে, উপকূলীয় এলাকায়, গৃহের আঙিনা ও বাড়ির ছাদে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর সুযোগ রয়েছে। দরকার শুধু চেষ্টা ও রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ উদ্যোগ। আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে—প্রকৃতিকে আমরা যেমনটা দেব, প্রকৃতিও আমাদের তেমনটাই ফেরত দেবে।
ঢাকা
