‘ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ’ দিয়ে করোনাকে হারানো যাবে না

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৩০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধানের সতর্কতা

এএফপি ও আলজাজিরা

ভ্যাকসিন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আচরণ করা হলে তা করোনা মহামারি মোকাবিলার পথে বাধা তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস। কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে তা নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করে না রেখে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদর দপ্তর থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আসপেন সিকিউরিটি ফোরামে যোগ দেন গেব্রেয়াসুস । সেই সময় তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ ভালো নয়, এর ফল ভালো হয় না। বিশ্ব যদি দ্রুত এ ভাইরাস থেকে মুক্ত হতে চায়, তবে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ এটি বিশ্বায়নের দুনিয়া। এখানকার অর্থনীতি একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের একাংশ কিংবা গুটিকয়েক দেশ একা একা নিজেদের ভাইরাস থেকে মুক্ত কিংবা সেফ হ্যাভেন করে রাখতে পারবে না।’

গেব্রেয়াসুস সতর্ক করেন, মারাত্মক এ রোগটির অস্তিত্ব যদি কোথাও থেকে যায়, তবে সব জায়গার মানুষের জীবনযাপনই ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি বলেন, ‘সামর্থ্যবান দেশগুলো যদি সহায়তা দেয়, তবে কোভিড-১৯ জনিত ক্ষতির মাত্রা কম হতে পারে। এর মানে এ নয় যে ধনী দেশগুলো অন্যদের দান করবে, বরং এ সহায়তাটুকু নিজেদের ভালোর জন্যই করতে হবে তাদের। কারণ, বাকি বিশ্ব ভাইরাসমুক্ত হবে, স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে, তখন তারাও (ধনী দেশগুলো) লাভবান হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন প্রয়োজন হতে পারে। মানুষের ওপর ২৬টি ভ্যাকসিনের বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা চলছে। তৃতীয় ধাপের বিস্তৃত পরীক্ষায় প্রবেশ করেছে ছয়টি ভ্যাকসিন। ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের প্রধান মিশেল রায়ান বলেন, ‘তৃতীয় ধাপে পৌঁছানো মানে এখানেই শেষ নয়, তৃতীয় ধাপে পৌঁছানোর মানে সাধারণ লোক অথবা স্বাস্থ্যবান লোকদের মধ্যে প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগ এবং এটা দেখা যে ভ্যাকসিনটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লোকদের সুরক্ষা দেয় কি না, সেটা যাচাই করা।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পক্ষ থেকে আমরা কিছু ভালো ভ্যাকসিন পেয়েছি, ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এসব ভ্যাকসিন ইমিউনিটি সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।’