তাইওয়ানে ড্রোন বিক্রি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৩০

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবনতি ঘটে, এমন কিছু

করা উচিত নয় ওয়াশিংটনের : চীন

রয়টার্স

তাইওয়ানের কাছে প্রথমবারের মতো কমপক্ষে চারটি অত্যাধুনিক ড্রোন বিক্রি করতে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিমানগুলো একাধারে সমুদ্র ও স্থলভাগে নজরদারি চালাতে সক্ষম। আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সূত্রের পক্ষ থেকে এ খবর জানানো হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবনতি ঘটে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত ওয়াশিংটনের।

নজরদারি চালানো এ বিমান-গুলোর পরিসীমা ৬ হাজার নটিক্যাল মাইল যা তাইওয়ানের বর্তমান ড্রোনগুলোর বহরের চেয়ে অনেক বেশি। মূলত এর মাধ্যমে তাইওয়ানকে চীনের ওপর বেশিমাত্রায় নজরদারি করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে এগুলো চীনের বিমান বাহিনী ও তাদের ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয়ের ওপর নজরদারি রাখতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এগুলোর অনুমোদন দিয়েছে। তবে এগুলো কবে নাগাদ বিক্রির জন্য পুরোপুরি অনুমতি পাবে সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। কারণ এ ধরনের বিষয়গুলো কংগ্রেসের মাধ্যম হয়ে আসতে হয়। আগামী মাসে কিংবা তার আগে এ সংক্রান্ত নোটিশ কংগ্রেসকে জানানো হবে বলে ঐ সূত্রগুলো দাবি করেছে। এক্ষেত্রে কংগ্রেস যদি বাধ সাধে তাহলে তার বিক্রি আটকে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ যদি কার্যকর হয়, তাহলে তা চীনের জন্য অত্যন্ত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ চীন তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে। রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটররা এমন একটি বিষয় বৃহস্পতিবার আইনসভায় উঠিয়েছিলেন। যাতে বলা হয়েছে শুধু মিত্রদেশগুলোতে অত্যাধুনিক উন্নতমানের ড্রোন রপ্তানি, স্থানান্তর কিংবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের বিক্রি কেবল ন্যাটো সদস্য দেশসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইসরাইলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সে বিবেচনায় ধরে নেওয়া যেতে পারে তাইওয়ানের কাছে ড্রোন বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কংগ্রেসে গেলে তা আটকে যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এই প্রথম এ ধরনের একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য চাওয়া হলে তারা তা প্রকাশে বিরত থাকেন। তবে বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েননি বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে ওয়াশিংটনকে বিরত থাকা উচিত।