আক্রান্ত ১৮ ফুটবলার
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
করোনা ভাইরাস এভাবে জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের লন্ডভন্ড করে দেবে, কোচ খেলোয়াড় কর্মকর্তারা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি। প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩৬ ফুটবলারের মধ্যে পরীক্ষা করিয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে গতকাল নতুন করে সাতজনসহ ১৮ ফুটবলার এবং সারা রিসোর্টের ক্যাম্পে থাকা সহকারী কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার করোনা শনাক্ত হয়েছেন।
ফুটবলার বিশ্বনাথ ঘোষ সবার আগে জানিয়েছিলেন তিনি পজিটিভ হয়েছেন। তাকে নিয়ে শনাক্তের সংখ্যাটা ১১ ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিশ্বনাথ নিজ উদ্যোগে পুনরায় টেস্ট করানোর পর তার নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছে বাফুফে। আক্রান্তরা আইসোলেশনে রয়েছেন। বর্তমানে সারা রিসোর্টে থাকা আক্রান্ত অন্য ফুটবলাররা হলেন- মানিক মোল্লা, ফয়সাল আহেমদ ফাহিম, মঞ্জুরুর রহমান মানিক, আব্দুল্লাহ, ইয়াসিন আরাফাত, বিপলু আহমেদ এবং সুফিল।
ন্যাশানল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ জানিয়েছেন—করোনার আশঙ্কা ছিল বলেই হাতে সময় নিয়ে ক্যাম্প শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ২০ বা ২২ আগস্ট ক্যাম্প শুরু করতাম তাহলে পিছিয়ে যেতাম। আগেই শুরু করার কারণে এখন সময়টাও পাচ্ছি। আর নতুন খেলোয়াড় ডাকার বিষয়টি এখনই ভাবছি না। একটু সময় দিন। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সুন্দর হবে না।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার—এই দুই দিনের টেস্টে প্রথম দিনে বিশ্বনাথ ছাড়াও পুলিশের নাজমুল ইসলাম রাসেল ও ম্যাথিউস বাবলু এবং উত্তর বারীধারা ক্লাবের সুমন রেজার নাম আসে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে আবাহনীর সোহেল রানা, টুটুল হোসেন বাদশা, গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল, বসুন্ধরা কিংসের সুশান্ত ত্রিপুরা ও ইব্রাহিম, রবিউল হাসান এবং গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোর। এই যখন অবস্থা, তখন বোঝাই যায় জাতীয় ফুটবলের অবস্থা এই মুহূর্তে কতটা নড়বড়ে।
এরপরও আতঙ্কিত নন কোচ জেমি ডে। আজ তৃতীয় দিনে তৌহিদুল আলম সবুজ, তপু বর্মন, মামুনুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম রানা, রায়হান হাসান, ইয়াসিন খান এবং নাবীব নেওয়াজ জীবনের টেস্ট করানোর কথা রয়েছে।
ইংল্যান্ডে জেমির কাছে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা থেকে খবর পৌঁছায়, ১০ জনই আক্রান্ত। কীভাবে হিসাব মেলাবেন বুঝে উঠতে পারছে না কোচ। তবে এই মুহূর্তে হতাশ হতে রাজি না জেমি।
ইংলিশ কোচ ইত্তেফাককে জানিয়েছেন এখনো অনেক সময় রয়েছে। শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন না। কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা ৮ অক্টোবর। এর মধ্যে হাতে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে প্রস্তুতির জন্য।
জেমি বলছেন, তিনি এমন একটা আশঙ্কা করছিলেন। বললেন, ‘এ কারণেই আমরা আগেভাগে হাতে সময় নিয়েই ক্যাম্প শুরু করেছি। এখন সুবিধা হচ্ছে খেলোয়াড়রা সাত দিন সময় পাবেন ফিরে আসার। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।’
গুরুত্বপূর্ণ সব ফুটবলার করোনায় শনাক্ত হয়েছেন। এদের বিকল্প কী হবে—সেই প্রশ্নে জেমি বলেন, ‘এটা কঠিন একটি সময়। আক্রান্ত খেলোয়াড়দের সুস্থ করে আনার জন্য কাজ করতে হবে। আগামী সপ্তাহে পুনরায় টেস্ট করা হলে আশা করি ভালো খবরই পাব।’
