বিভিন্ন ভাতার আশ্বাসে দরিদ্রদের অর্থ আত্মসাত্

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৬

সিংগাইরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মানবেন্দ্র চক্রবর্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঐ অভিযোগের ভিত্তিতে এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হতদরিদ্র শিল্পী বেগম, শিরিন আক্তার, খাদিজা বেগম ও রাহেলা বেগমের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার করে টাকা আদায় করেন সোহরাব মেম্বার। তারা কেউ ঘর পাননি। এদের মধ্যে শিল্পী বেগম অন্ধ এবং ভিক্ষুক। এছাড়া বয়স্ক ভাতার কথা বলে পরিমল চক্রবর্তী, নেপাল রায়, পরিতোশ সরকার, আরমান খান, রহমান শেখ, আইশা বেগম, জবেদা বেগম, ভবেশ বাড়ৈ ও কমল সিকদারের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা আদায় করেন তিনি। অন্য দিকে তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার কথা বলে রাসেদা বেগম, সুফিয়া বেগম, গীতা রানী, ধীরেন বিশ্বাস, সায়মা আক্তার, অনামিকা, আঁখি বেগম ও ইব্রাহিমের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার করে টাকা আদায় করেন। এছাড়া ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার কথা বলে সিরাজ নামে একজনের কাছ থেকে ৭ হাজার ৫০০ এবং শুকুর জান নামে আরেক জনের কাছ থেকে ১০ কেজি চালের কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেন ঐ মেম্বার। প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে রোমা বেগম নামে এক মহিলা ও এক চোখ অন্ধ আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা আদায় করেন তিনি। আর বিধবা ভাতা দেওয়ার কথা বলে আমেনা আক্তার নামে এক বৃদ্ধার কাছ থেকে নেন ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্বামী রয়েছে চারাভাঙ্গা গ্রামের এমন এক নারী হেনা আক্তারকে দেওয়া হয়েছে বিধবা ভাতা। বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আরো অনেকের কাছ থেকে ঐ মেম্বার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারীরা বলেন, ‘বন্যার মধ্যে বিপদে আছি। আমরা এমনিতেই গরিব এবং অসহায়। আমাদের কেউ টাকা ধার দেয় না। অথচ সুদে টাকা এনে মেম্বারকে দিয়েছি। টাকা নেওয়ার কথা চেয়ারম্যানও জানেন।’ অভিযোগকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লার বরাত দিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে তাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মজনু খান তার সুনাম নষ্ট করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব লোকের কাছ থেকে মিথ্যে কথা বলে দস্তখত নিয়ে তিনিই তার বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে। এদিকে ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নাকচ করে উলটো তার পক্ষে সাফাই গান একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান জিন্নাহ লাটু।