করোনাকালীন ঘরবন্দি থেকে অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। শুধু শিশু বা তরুণরাই নয়, বয়স্করাও বলছেন আর কত ঘরে সময় কাটানো যায়। একঘেয়েমি জীবন আর ভালো লাগছে না তাদের কাছে। তাই প্রশাসনের নিষেধ উপেক্ষা করে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানুষ ছুটে আসছে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমি স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই জড়ো হচ্ছেন এসব স্থানে, যাদের বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক নেই। ঈদুল আজহার পর থেকেই দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন সিলেটের বিছানাকান্দি, জাফলং, লালাখাল, পাংথুমাই, লোভাছড়াসহ বিভিন্ন চা-বাগানগুলোতে। হাওর প্রধান সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্পটেও বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ে গত কদিন আগে শিমুল বাগানসহ যাদুকাটা নদীতে ঘুরতে ঢাকা থেকে আসা ১৫ জনের তরুণ দল জানায়, একঘেয়েমি জীবনে তারা অতিষ্ঠ।
এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। সিলেটের জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, রাতারগুল, লালাখাল পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। এখানকার চা-বাগানসহ অনেক স্পট দেখতে সারা বছরই সিলেটে ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে গত মার্চ থেকে এসব এলাকা প্রায় পর্যটকশূন্য। এতে লোকসান গুনছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয় ঈদুল আজহার ছুটি আর প্রচণ্ড গরমে। গত কদিন থেকে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় ভিড় বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের। গতকাল দুপুরের দিকে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ভিড় ছিল প্রচুর। ঈদের ছুটিতে প্রশাসনের কড়াকড়ি ততটা না থাকায় অনেকেই এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা বলেন, এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকায় বেড়াতে আসা তরুণরা জানান, প্রচণ্ড গরম তাই এখানে একটু বাতাসে প্রাণ জুড়াতে এসেছেন তারা। জানালেন মাস্ক মুখে না থাকলেও পকেটে আছে।
এদিকে করোনার মধ্যেও পর্যটকে মুখরিত শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের চা-বাগান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। তীব্র গরমে পর্যটকরা ছুটছেন চা-বাগানসহ বিভিন্ন এলাকায়। তাছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের স্মৃতিসৌধ এলাকা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, পাহাড়ি ও পর্যটন অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে এই সময়ে লাখো পর্যটকের ঢল নামে। তবে এবার বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুন্ড ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকটি তালাবদ্ধ। মাধবকুন্ড জলপ্রপাতেরও একই দশা।
এমতাবস্থায় পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট পর্যটকশূন্য। করোনায় তাদের মোটা অংকের ক্ষতি হয়েছে। তাই করোনা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন এলাকা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন এলাকা খুলে দেবার জন্য পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। ছোট পরিসরে ঐ স্পটগুলো খুলে দেওয়া হবে এমন আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে এখনো খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
