বাঁশখালীর ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ২২:১৮

ধর্ষণসহ ১২ মামলার আসামি!

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ চৌধুরী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে বনবিভাগের জমি, চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠসহ সরকারি-বেসরকারি ১২ হাজার ২২৫ শতক জমি দখল, নকল স্বর্ণ ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও পাঁচলাইশ থানায় ধর্ষণসহ অন্তত ১২টি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া অনেকবার সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি চারটি মামলায় খালাস পেলেও অন্য বিচারাধীন মামলাগুলোতে জামিনে আছেন। জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান হারুনের ভাই মো. আলমগীর এবং চেয়ারম্যানের সহযোগী বলে পরিচিত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ চার-পাঁচটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই মানব পাচার, ডাকাতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যাসহ সাত-আটটি মামলা চলমান রয়েছে। দুই জনেই বর্তমানে পলাতক।

ছনুয়ার আইনজীবী আতার উল্লাহ চৌধুরী, আব্দুর ছবুর, মো. সরোয়ার, মোজাম্মেল হকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘সন্ত্রাসী হারুন ২০১৭ সালে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর থেকে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বহুমাত্রায় বেড়ে গেছে। আমাদের পৌত্রিক ১২ হাজার ২২৫ শতক চিংড়ি ঘের, লবণ মাঠ দখল করেছে সে ও তার লোকজন। উপকূলীয় বনবিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারম্যান হারুন বনবিভাগের ৪০০ কানি জায়গা দখল করে রেখেছেন। জানা গেছে, চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গতবছর র্যাব অভিযান চালালে হারুন বাহিনীর অন্যতম সদস্য মো. বাহাদুর ওরফে বাহাদুর ডাকাত, নুরুল আলম, মো. হোসাইন ও আবু তালেব র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। কিন্তু তারপরও হারুন, তার ভাই আলমগীরসহ হারুন বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জমি দখল, চাঁদাবাজি থেমে নেই।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘প্রতিপক্ষ শত্রুরা আমার ও আমার ভাইদের নামে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে’ বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

বাঁশখালী থানার ওসি মো. রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘ছনুয়ায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চার সন্ত্রাসী গত বছর নিহত হবার পর ছনুয়ার পরিবেশ ভালো হয়ে আসছিল। তারপরও ছনুয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছনুয়ায় কেউ সন্ত্রাস করে রক্ষা পাবে না, সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন।’