ব্রজগোপাল বণিক, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের চকবাজার নামক স্থানে এবং মসূয়া ইউনিয়নের বৈরাগীরচর গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন শুরু হয়েছে। গত আট-দশ দিনে ফসলি জমি, রাস্তা, বাজার, বাঁশঝাড় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পাড়ের কয়েক শ পরিবার ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন।
জানা যায়, গত শুষ্ক মৌসুমে নদী খননের সময় লোহাজুরী ইউনিয়ন এলাকাবাসী ভাঙন এলাকা শাসন করে বা নদী খননের উত্তোলিত বালু দিয়ে ভাঙন এলাকা ভরাটের দাবিতে মানববন্ধন করে। অতি দ্রুত নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় কটিয়াদী-পাইকান সড়ক ভেঙে উপজেলা সদরের সঙ্গে লোহাজুরী ও জালালপুর ইউনিয়নের দুই-তিনটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে মসূয়া ইউনিয়নের বৈরাগীরচর গ্রামের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
লোহাজুরী ইউনিয়নের চকবাজারের মস্তোফা কামাল বলেন, তার ১২টি দোকানের মধ্যে তিনটি দোকান এবং মঞ্জিল মিয়া, বাচ্চু মিয়া ও বাদল মিয়ার বেশ কয়েকটি বাঁশঝাড়, ছমির উদ্দিনের বড় বড় কয়েকটি গাছ এবং আলকাছ মিয়ার বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
লোহাজুরী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান গোপাল জানান, ভাঙন এলাকার ভাঙাপাড় ভরাটের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছিলাম। প্রশাসন এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তা রক্ষা হয়নি। একটি চক্র ইচ্ছেমতো বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছে। লোহাজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, নদী খননে ত্রুটি ছিল। বাঁকগুলো সঠিকভাবে খনন হয়নি। এবার পানি বৃদ্ধি বিগত ১৫-২০ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। নানা কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
নদীভাঙনের সংবাদ পেয়ে সম্প্রতি নূর মোহাম্মদ এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আকতারুন নেছা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (কিশোরগঞ্জ) মোহাম্মদ আলী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
