ফরিদপুরে বন্যায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৭

ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩ হাজার কৃষক

ফরিদপুর প্রতিনিধি

চলমান বন্যার দ্বিতীয় দফা পানি বৃদ্ধিতে ফরিদপুরে ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩ হাজার কৃষক। যদিও স্থানীয় হিসেবে এর পরিমাণ আরো বেশি। এর মধ্যে ধান, সবজি ও রবিশস্যের জমির পরিমাণ বেশি, রয়েছে ফরিদপুরের অন্যতম ফসল পাটও।

সরেজমিনে জেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম দফার বন্যাতেই তলিয়ে যায় ফরিদপুরের নিন্মাঞ্চল। সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাদাম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবিশস্য। এর পরে দ্বিতীয় দফায় পানি বাড়লে বিনষ্ট হয় পাকা ধান, সবজি খেত, কলাবাগান ও পাট। কয়েক দিনের মধ্যেই ধান ও পাট কাটার কথা ছিল কৃষকদের। কিন্তু দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধান ও পাট কেটে ঘরে তোলার সুযোগ হয়নি তাদের। শহরতলীর মোস্তফাডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আফজাল জানান, তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। দেড় বিঘার মতো কাটতে পেরেছেন, বাকিটা পানিতে তলিয়ে গেছে। সরকারি হিসেবে পাট খেতের ক্ষতির তথ্য উল্লেখ না থাকলেও কৃষকরা জানিয়েছে, বেশির ভাগ পাট খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা কাটতে পারেননি। আর এতদিন পানিতে ডুবে থাকায় ঐ পাট আর কোনো কাজেও আসবে না। জেলার সদর উপজেলার অম্বিকাপুর এলাকার কৃষক বক্কার খান বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কম-বেশি ক্ষতি হয়, কিন্তু এবারের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। আমার ২০ বিঘা আমন, দুই একর পাটের খেত গত ২০ দিন হলো পানির নিচে। এই খেত থেকে ফসল পাওয়ার কোনো আশা নেই। পানিতে ক্ষতির কথা জানালেন, নর্থচ্যানেল এলাকার চাষি হাফিজুর। তিনি বলেন, ছয় বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছিলাম। এক দিনে দেড় হাত পানি বৃদ্ধি পেয়ে সব তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হযরত আলী জানান, জেলায় আউশ, রোপা আমন, বোপা আমন, রিলে আমন, বীজতলা ও সবজি খেতসহ ১৪ হাজার ৬৫৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ৬৩ হাজার ৪২৫ জন কৃষক। এর বাইরে চরাঞ্চলের কলাবাগানসমূহের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।