বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয় নাই। করোনা মহাদুর্যোগের কারণে রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ সমগ্র বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনেও নামিয়া আসিয়াছে স্থবিরতা। এই স্থবিরতা ধীরে ধীরে হয়তো কাটিয়া যাইবে। বিশ্ববাসী এক ধরনের নূতন জীবনযাপনে দিনদিন অভ্যস্ত হইয়া উঠিতেছেন। এই ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতির সহিত ক্রীড়াঙ্গনও খাপ খাইয়া চলিবার চেষ্টা করিতেছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা মাঠে গড়াইয়াছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবল লিগ শেষ হইয়াছে। মাঠে গড়াইয়াছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা কাপ। বর্তমানে চলিতেছে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনও আড়মোড়া ভাঙিয়া জাগিয়া উঠিতেছে। ঈদুল আজহার পূর্বেই ক্রিকেটারদের জন্য ব্যক্তিগত অনুশীলনের দ্বার খুলিয়া দিয়াছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঈদের পর গতকাল হইতে দ্বিতীয় পর্যায়ে তাহাদের ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু হইয়াছে ঢাকা ছাড়াও দেশের আরো চার ভেন্যুতে। গতকাল এই পাঁচটি ভেন্যুতে একক অনুশীলন করিয়াছেন দেশের ২৭ ক্রিকেটার। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলিতে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কা সফর করিবার কথা রহিয়াছে। এই উপলক্ষ্যে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলনে উত্সাহ প্রদান করিতেছে বিসিবি।
যখন খেলোয়াড়রা খেলা ও অনুশীলন হইতে বিরত থাকেন, তখন স্বাভাবিকভাবে তাহাদের ফিটনেসসহ নানাক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। কোনো কোনো খেলোয়াড় মানসিকভাবে ভাঙিয়াও পড়েন, এমনকি মানসিক চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। আমাদের ক্রিকেটারদের সেই দুরবস্থা ক্রমেই দূর হইতে যাইতেছে জানিয়া অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর মতো আমরাও আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত; কিন্তু ব্যক্তিগত অনুশীলনে কেহ যাইবেন আবার কেহ যাইবেন না—এমন নিয়ম কেন করা হইবে? দীর্ঘ বিরতির পর আমাদের ক্রিকেটাররা বিদেশে খেলিতে যাইবেন বিধায় ইহা সকলের জন্য কেন বাধ্যতামূলক হইবে না? এই করোনাকালেও শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান মাঠে সক্রিয় রহিয়াছে। তাহাদের সহিত পাল্লা দিতে হইলে দীর্ঘদিন ধরিয়া না খেলা বাংলাদেশ দলের আরো কঠোর পরিশ্রম করা প্রয়োজন; কিন্তু অনুশীলনকে যেভাবে অপশনাল বা ঐচ্ছিক করা হইয়াছে, তাহা সংগত হয় নাই। ইহাতে তাহাদের স্ট্যামিনা লইয়া প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। বরং ঘরে-বাহিরে তাহাদের অনুশীলন কীভাবে বাড়ানো যায় তাহা লইয়া ভাবা প্রয়োজন। এমনকি শিগিগরই শুরু করা প্রয়োজন দলীয় অনুশীলনও।
করোনা মহামারি কখন যাইবে, ইহার ভ্যাকসিন কখন আবিষ্কার হইবে তাহার কোনো নিশ্চয়তা নাই। সুতরাং ক্রিকেটাররা বসিয়া থাকিতে পারেন না। বরং স্বাস্থ্যবিধি মানিয়া কীভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটকেও উজ্জীবিত করা যায়, তাহা লইয়া গভীর চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। অবশ্য করোনায় জাতীয় ফুটবল দলের এখন লন্ডভন্ড অবস্থা। প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ২৪ ফুটবলারের মধ্যে ১৮ জনই করোনায় আক্রান্ত হইবার খবর পাওয়া গিয়াছে, যদিও তাহাদের পরীক্ষানিরীক্ষা প্রশ্নাতীত নহে। তবে আমরা মনে করি, এতত্সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের মনোবল অক্ষুণ্ন রাখিতে হইবে। খেলাটা একটা যুদ্ধের মতো। করোনা আসিয়া আরেক ও নূতন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করিয়াছে। এই যুদ্ধেও লড়াই করিবার জন্য ক্রিকেটযোদ্ধাদের শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবে সর্বদা প্রস্তুত থাকিতে হইবে।
